বরিশাল জেলখানা মোড়ে অবৈধ স্থাপনায় ফুটপাত বেদখল, দুর্ভোগে হাজারো পথচারী
বরিশাল নগরীর জেলখানা মোড় থেকে নাজিরের পুল সড়ক পর্যন্ত ফুটপাত এখন কার্যত ব্যবহার অনুপযোগী। সদর হাসপাতালের পূর্ব পাশের দেয়াল ঘেঁষে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) একটি পরিত্যক্ত ও অবৈধ স্থাপনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকাজুড়ে ফুটপাত বেদখলের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে বিশৃঙ্খলার চিত্র
বুধবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, জেলখানা মোড়ে তিনটি রুটের ইজিবাইক, সিএনজি ও মোটরসাইকেল দাঁড়িয়ে থাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। একই সঙ্গে ফুটপাতজুড়ে রয়েছে হকার, দোকান ও যানবাহনের স্ট্যান্ড। ফলে হাসপাতালমুখী রোগী, যাত্রী এবং এলাকাবাসীর জন্য নিরাপদে হাঁটার কোনো সুযোগ নেই।
বিশেষ করে জেনারেল হাসপাতালের সামনের ফুটপাত ধরে নাজিরের পুল, ভাটিখানা ও আমানতগঞ্জের দিকে যাতায়াত কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একদিকে যানবাহনের চাপ, অন্যদিকে ফুটপাত দখল—দুইয়ের চাপে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারীরা।
অবৈধ স্থাপনার ছায়ায় বাণিজ্য
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের দেয়াল ঘেঁষে থাকা বিসিসির পরিত্যক্ত অবৈধ স্থাপনাটির নিচে কোনো কার্যকর কাঠামো নেই। যেকোনো সময় এটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে সেটি অপসারণ না করায় এর আশপাশে গড়ে উঠেছে ইজিবাইক, সিএনজি ও মোটরসাইকেলের অস্থায়ী স্ট্যান্ড। পাশাপাশি সেখানে জমে উঠেছে ময়লা-আবর্জনা ও মানববর্জ্য, যা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে পুরো এলাকায়।
অন্যদিকে, জেলখানার দেয়াল ঘেঁষে ফুটপাত দখল করে বসেছে চা দোকান, খাবারের হোটেল, সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান। ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, কেউ তাদের বসায়নি কিংবা কোনো চাঁদাও নেওয়া হচ্ছে না—পেটের দায়েই তারা এখানে ব্যবসা করছেন।
বাসিন্দাদের ক্ষোভ ও নিরাপত্তা শঙ্কা
কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা শেলি ও শর্বনাম দাস বলেন, এই পরিস্থিতির জন্য পুরোপুরি দায়ী সিটি করপোরেশন। তাদের মতে, অবৈধ স্থাপনাটি অপসারণ না করায় সেটিকে কেন্দ্র করেই ফুটপাত দখল ও বাণিজ্য চলছে। শিশুদের নিয়ে এ পথে চলাচল করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলেও তারা জানান।
তারা আরও অভিযোগ করেন, এলাকায় প্রায়ই বখাটেদের আড্ডা বসে। এমনকি সেখানে পুলিশ সদস্যদেরও আড্ডা দিতে দেখা গেছে বলে দাবি করেন তারা।
পুলিশের বক্তব্য
ঘটনাস্থলে থাকা এক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য জানান, দুর্গন্ধের কারণে সেখানে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করাও কষ্টকর। সন্ধ্যার পর জায়গাটি ভাগাড়ে পরিণত হয় এবং রাতে সেটিই ব্যবহার করা হয় অস্থায়ী পাবলিক টয়লেট হিসেবে।
গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চরম ভোগান্তি
১৯ নম্বর ওয়ার্ড নাজির মহল্লার বাসিন্দা আজিজুল হক বলেন, এই সড়কের পাশে রয়েছে জেলা হাসপাতাল ও জেলখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি বাবুগঞ্জ, মুলাদি ও শায়েস্তাবাদে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ এটি। প্রতিদিন লাখো মানুষের চলাচল হলেও ফুটপাত ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। তার অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবেই একপাশে ভাগাড় আর অন্যপাশে দোকান বসিয়ে একটি চক্র বাণিজ্য চালাচ্ছে।
সিটি করপোরেশনের প্রতিশ্রুতি
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার রায়হান কাওছার এবং সিইও রেজাউল বারী জানান, তারা দ্রুত স্থানটি পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তারা।
সূত্র: দৈনিক আজকের পরিবর্তন






