প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে বরিশালের বেলস পার্কে ২৫০ দোকান, পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বরিশালের বেলস পার্কে ২৫০ দোকান, পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪০ অপরাহ্ন

বেলস পার্কে অবৈধ দখল বাড়ছে উচ্ছেদ অভিযান নেই

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৫
বেলস পার্ক

বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্কে দোকান বাণিজ্য: সৌন্দর্য নষ্টের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে প্রশাসন

বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্কে বর্তমানে গড়ে উঠেছে অবাধ দোকান বাণিজ্য। ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২৫০টি দোকান বসে প্রতিদিন আদায় করা হচ্ছে বিপুল অংকের টাকা। তবে এসব দোকান কারা বসিয়েছে এবং কার অনুমতিতে চলছে—তা নিয়ে রয়েছে বড় ধরনের ধোঁয়াশা।

প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা আদায়, অনুমতির হিসাব মেলেনি

স্থানীয়দের তথ্যমতে, ছোট দোকান থেকে প্রতিদিন ৩০ টাকা এবং বড় দোকান থেকে ৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এ হিসাবে প্রতিদিন প্রায় লক্ষাধিক টাকা আয় হচ্ছে। তবে সিটি করপোরেশন বলছে, তারা মাত্র ১৭৮টি দোকানের অনুমতি দিয়েছে এবং এসব দোকানের জন্য বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা করে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ নিচ্ছে।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, দোকানের সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়েছে এবং অতিরিক্ত প্রায় ৮০টি দোকান পার্কের মাঠের অর্ধেক জায়গা দখল করে ফেলেছে।

দর্শনার্থীদের অভিযোগ: মানবিকতার নামে বিশৃঙ্খলা

এদিকে পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা বলছেন, বেলস পার্কের সৌন্দর্য বজায় রাখতে সর্বোচ্চ ২০ থেকে ২৫টি দোকানই যথেষ্ট। মানবিকতার দোহাই দিয়ে অতিরিক্ত দোকান বসিয়ে প্রশাসন নিজেরাই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে—এমন অভিযোগও তুলেছেন অনেকে।

২৬ এপ্রিল শনিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, মহিলা ক্লাবের সামনে থেকে শুরু করে ওয়াকওয়ে ও মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দেয়াল ঘেঁষে সারি সারি দোকান বসানো হয়েছে। এমনকি উন্মুক্ত শিশুপার্কের প্রবেশমুখে ১০ টাকা প্রবেশমূল্যের নোটিশ ঝুলছে।

শিশুপার্কে প্রবেশমূল্যে আপত্তি নেই, দোকানে আপত্তি

দর্শনার্থীরা জানান, শিশুপার্ক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রবেশমূল্য নেওয়ায় আপত্তি নেই। তবে পুরো বেলস পার্কজুড়ে এভাবে দোকান ছড়িয়ে পড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রাতঃভ্রমণকারীদের বিরক্তি ও নিরাপত্তা শঙ্কা

সকাল-সন্ধ্যা ওয়াকওয়ে ব্যবহারকারী বরিশাল বিভাগীয় প্রাতঃভ্রমণ ও শরীরচর্চা পরিষদের সিনিয়র সদস্যরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, অতিরিক্ত দোকানের কারণে হাঁটার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বাড়ছে এবং ইতিমধ্যেই মারাত্মক দুটি ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সন্ধ্যার পর ডিসি লেক সংলগ্ন এলাকা মাদকাসক্ত কিশোরদের দখলে চলে যায়। এছাড়া দোকানের বর্জ্য মাঠ ও লেকে ফেলার ফলে পানিও দূষিত হচ্ছে।

উন্নয়ন কাজ চললেও পরিবেশ সংকটে

যদিও সাম্প্রতিক সময়ে পার্কের লাইট, ওয়াকওয়ে, পাবলিক টয়লেট ও বাউন্ডারি ওয়ালের কাজ শুরু হয়েছে। মাঠের পাশের মসজিদ সংস্কার করা হয়েছে এবং এসব কাজ সরেজমিনে তদারকি করছেন বিভাগীয় কমিশনার ও সিটি প্রশাসক মো. রায়হান কাওছার।

তবে স্থানীয়দের মতে, উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি দোকান নিয়ন্ত্রণ না হলে পার্কের পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব নয়।

ঐতিহ্যবাহী বেলস পার্কের গর্বিত ইতিহাস

ব্রিটিশ শাসনামলের শেষ দিকে তৎকালীন বাকেরগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক মি. বেলের উদ্যোগে প্রায় পৌনে ৯ একর সরকারি খাস জমিতে গড়ে ওঠে এই পার্ক। তার নামানুসারেই এর নামকরণ হয় ‘বেলস পার্ক’

পরবর্তীতে পাকিস্তান আমলে গণপূর্ত বিভাগ এর তত্ত্বাবধান নেয়। ২০০৪ সালে ও ২০১১ সালে বিভিন্ন সময়ে কোটি টাকা ব্যয়ে পার্কের ওয়াকওয়ে, লাইটিং, বসার বেঞ্চ, লেক সংস্কার ও বৃক্ষরোপণ করা হয়, যা নগরবাসীর কাছে প্রশংসিত ছিল।

দায়িত্ব নিয়ে বিভ্রান্তি

এ বিষয়ে বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লুসিকান্ত হাজং বলেন, বেলস পার্কের মাঠ ও ডিসি লেক জেলা প্রশাসনের অধীনে থাকলেও পার্কের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও দোকান ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের।

ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই অতিরিক্ত দোকান বসানোর দায় কার?

সূত্র: দৈনিক আজকের পরিবর্তন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved 2018-2026,
Design By MrHostBD
themesba-lates1749691102