বরিশালে এখনো টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড পাননি অধিকাংশ উপকারভোগী। কয়েক মাস আগে আবেদন করেও কার্ড না পেয়ে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ড সচিবের কার্যালয়ে ঘুরছেন নিম্নআয়ের মানুষজন। সামনে রমজান মাস। এর আগে কার্ড হাতে না পেলে ন্যায্যমূল্যে খাদ্যপণ্য কেনা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় ৭২ শতাংশ উপকারভোগীর হাতে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। আর সিটি করপোরেশন বলছে, দ্রুত বাকি কার্ড বিতরণের সমস্যার সমাধান হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্টের পর তথ্যে অমিল, এক পরিবারের একাধিক কার্ডসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে বরিশাল নগরীতে টিসিবির প্রায় ৫৮ হাজার ৪২৬টি ফ্যামিলি কার্ড বাতিল করা হয়। পরে নতুন করে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বরাদ্দের কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময়ে বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ৯০ হাজার উপকারভোগীর জন্য স্মার্ট কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সেই লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডে আবেদন গ্রহণ করা হয়।
আবেদনকারীরা জানান, বাস্তবে অনেক আবেদনকারী আবেদন করার পর অনলাইনে কার্ড নম্বর দেখা গেলেও টিসিবি ও সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঢাকা থেকে এখনো কার্ড প্রিন্ট না হওয়ায় সরবরাহ করতে দেরি হচ্ছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা।
ভুক্তভোগীরা বলেন, ‘৬/৭ মাস আগে আবেদন করেও কার্ড পাচ্ছেন না তারা। অনলাইনে তাদের কার্ডের নম্বরও দেখা যায়। কিন্তু কার্ড হাতে পায়নি। সামনে রোজার মাস। বাজারে তেল ও চিনির দাম অনেক বেশি। টিসিবি কার্ড পেলে তাদের অনেক উপকার হতো।’
বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সচিব মো. সোহেব রহমান বলেন, ‘আবেদন জমা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অনলাইনে কার্ড নম্বর দেখা যায়। কিন্তু কার্ড প্রিন্ট হয়ে ঢাকা থেকে আসতে তিন থেকে চার মাস সময় লাগছে। এতে প্রতিদিনই উপকারভোগীদের জবাব দিতে হচ্ছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরিশাল সিটি করপোরেশনের আরেক ওয়ার্ড সচিব বলেন, ‘৩০টি ওয়ার্ডের জন্য বরাদ্দ হওয়া কার্ডের অর্ধেক এখনো হাতে পাইনি। মানুষ প্রতিদিন এসে কার্ডের খোঁজ নেয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারছি না।’
টিসিবির সহকারী পরিচালক শতদল মণ্ডল বলেন, ‘স্মার্ট কার্ড বিতরণের আগে প্রায় ৫৭ থেকে ৫৮ হাজার কার্ড বাতিল করা হয়েছিল। যাচাই-বাছাই ও ভেরিফিকেশনের কারণে কিছুটা সময় লাগছে। আশা করছি, রমজানের আগেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে।’
তিনি জানান, বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯০ হাজার কার্ডের মধ্যে ৬৪ হাজার ৬০৮টি কার্ড ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৭২ শতাংশ। এ ছাড়া পুরো বরিশাল জেলায় ১ লাখ ২৯ হাজার ৯২১টি কার্ডের মধ্যে ৯৬ হাজার ৮৪০টি কার্ড হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় টিসিবির পণ্য বিক্রি করছেন ৯৮ জন ডিলার। পুরো জেলায় ডিলারের সংখ্যা ৭৫ জন।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, ‘মোবাইল নম্বরসহ তথ্যগত জটিলতার কারণে অনেক আবেদন সফটওয়্যারে নেওয়া যায়নি। ঢাকার হেড অফিস থেকে সংশোধন শেষে কার্ড পাঠানো হচ্ছে। যারা আবেদন করেছেন, সবাই পর্যায়ক্রমে কার্ড পাবেন।’
সূত্র : খবরের কাগজ






