প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে বরিশালে অন্য ব্যাংকের কার্ডে টাকা মিলছে না বেশীরভাগ বুথে | প্রিয় বরিশাল বরিশালে অন্য ব্যাংকের কার্ডে টাকা মিলছে না বেশীরভাগ বুথে | প্রিয় বরিশাল
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ন

বরিশালে অন্য ব্যাংকের কার্ডে টাকা মিলছে না বেশীরভাগ বুথে

অনলাইন ডেক্স
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫
ব্যাংক বুথ

টাকা উত্তোলন ব্যয় বাড়লেও বরিশালে বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম বুথে গ্রাহক হয়রানিও ক্রমশ বাড়ছে। উপরন্তু সাপ্তাহিক ছুটি সহ যেকোন বন্ধের দিনগুলোতে বুথ থেকে টাকা তুলতে নাকাল হচ্ছেন গ্রাহকগন। তারল্য সংকট আড়াল করতে গত বছর আগস্ট থেকে বিভিন্ন ব্যাংক নানা অজুহাতে এটিএম বুথ থেকে গ্রাহকদের টাকা প্রদান সীমিত করণের পাশাপাশি নানাভাবে নিরুৎসাহিত করছে। যা গ্রাহক হয়রানিকে ক্রমশ বৃদ্ধি করে চললেও বিষয়গুলো নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও অনেকটাই নির্বিকার। এমনকি বরিশাল অঞ্চলের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ঠিক কতগুলো এটিএম বুথ রয়েছে তাও জানে না কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বরিশাল অফিস।

বিদ্যমান বুথগুলোতে গ্রাহক হয়রানির বিষয়গুলোও কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির কাছে অনেকটাই অবান্তর বলেই মনে হয়েছে। এ বিষয় নিয়ে যতবারই বাংলাদেশ ব্যাংকের বরিশাল অফিসের দায়িত্বশীল মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে,ততবারই নানাভাবে এড়িয়ে গেছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গন। এমনকি বিষয়টি নিয়ে মতামত জানতে গত কয়েকদিন ধরেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির বরিশাল অফিসের নির্বাহী পরিচালকের দাপ্তরিক সেলফোনে যোগাযোগের বহু চেষ্টা করা হলেও কোন সাড়া মেলেনি।

তবে একাধিক সূত্রের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বরিশাল অফিসের আওতাভুক্ত এলাকায় সরকারী-বেসরকারি ৩৬টি ব্যাংকের সহস্রাধিক ফাস্ট ট্র্যাক সহ এটিএম বুথে প্রতিদিন লক্ষাধিক গ্রাহক নগদ টাকা উত্তোলন ও জমা করে থাকেন। কিন্তু গত বছর আগস্টের পটপরিবর্তনের পরে প্রায় সব ব্যাংকই তাদের এটিএম বুথ থেকে অন্য ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা প্রদান সীমিত করেছে। উপরন্তু ইতোপূর্বে বুথগুলো থেকে গ্রাহকদের একবারে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রদান করা হলেও এখন দশ হাজার টাকার বেশী দেয়া হচ্ছেনা । এমনকি নিজ ব্যাংকের বাইরে অন্য ব্যাংকের বুথ থেকে গ্রাহকদের আগে প্রতিবারের লেনদেনে ২০ হাজার টাকা উত্তোলনে ১৫ টাকা চার্জ ধার্য্য থাকলেও এখন ১০ হাজার টাকা উত্তোলনেই ২০ টাকা চার্জ প্রদান করতে হচ্ছে। কিন্ত সে চার্জ প্রদান করেও এখন বেশীরভাগ ব্যাংকের বুথ থেকে অন্য ব্যাংকের গ্রাহকগন টাকা তুলতে পারছেন না।

শুধুমাত্র ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বুথ এবং ফাস্ট ট্রাকের এটিএম ও সিআরএম মেশিন থেকে প্রায় সব ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা প্রদান করা হলেও সেসব স্থাপনায়ও রাত ৯টার পরে ১টি মেশিন চালু রেখে অন্যগুলোতে গ্রাহকদের প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। এমনকি ঈদ সহ যে কোন লম্বা ছুটির সময়ও ব্যাংকটির সব ফার্স্ট ট্রাকেই মাত্র ১টি করে সিআরএম মেশিন চালু রেখে অন্যসবগুলো আটকে দেয়া হয়। ডাচ-বাংলার বুথ ও ফার্স্ট ট্রাকগুলোতে প্রায় সব ব্যাংকের কার্ডের বিপরীতে টাকা প্রদান করা হলেও সেখানেও ইতোপূর্বের ২০ হাজার টাকার পরিবর্তে ১০ হাজার টাকায় সীমিত করা হয়েছে।

ডাচ-বাংলার পরে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে’এর এটিএম বুথের সংখ্যা বেশী থাকলেও গত বছর আগস্ট থেকে সেখানেও অন্য সব ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে টাকা প্রদান বন্ধ রাখা হচ্ছে প্রায়শই। তবে রাষ্ট্রীয় রূপালী ব্যাংকের হাতেগোনা কয়কটি বুথে বেশীরভাগ ব্যাংকের কার্ডের বিপরীতে টাকা পরিশোধ করা হলেও অনেক নামি দামী ব্যাংগুলোও এক্ষেত্রে রক্ষণশীল ভূমিকা পালন করায় সাধারণ মানুষের দূর্ভোগ সব বর্ণনার বাইরে। এমনকি সীমিত কয়েকটি ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে অন্যসব ব্যাংকের এটিএম কার্ডের বিপরীতে টাকা প্রদান করা হলেও কোন বুথ থেকেই এককালীন ১০ হাজারের বেশী টাকা প্রদান করা হচ্ছে না। সীমিত সংখ্যক বুথে অন্য ব্যাংকের কার্ডের বিপরীতে টাকা প্রদান করা হলেও সেসব বুথে বাড়তি চাপে গ্রাহক হয়রানী বাড়ছে।

অপরদিকে অতি সম্প্রতি যে ৫টি রুগ্ন ব্যাংক নিয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক চালু করা হচ্ছে,সেসব ব্যাংকগুলোর সব বুথই ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঐসব ব্যাংক গ্রাহকদের দূর্ভোগ এখন সব বর্ণনার বাইরে।

ফলে অন্য ব্যাংকের বুথে চাপ বাড়ছে। এমনকি ডাচ-বাংলা সহ কয়েকটি ব্যাংকের বুথে দিন-রাতই গ্রাহকের অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়না। এসব বুথে নারী ও তাদের সাথে থাকা শিশুরা অনেক সময়ই অস্বস্তিকর অবস্থা পড়ছেন। বিশেষকরে ডাচ-বাংলার ফাষ্ট্র ট্রাকগুলোতে রাত ৯টা থেকে ১টি মাত্র সিআরএম মেশিন চালু রাখায় বেশীরভাগ গ্রাহককেই এটিএম বা সিআরএম মেশিন পর্যন্ত পৌছতে দীর্ঘ সময় রাস্তায় দাড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

এসব বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বরিশাল অফিসের নির্বাহী পরিচালকের সাথে আলাপ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, নিরাপত্তার কারনে তাদের প্রায়সব এটিএম বুথ বন্ধ করে বিশেষ বিশেষ স্থানে ৩-৪টি এটিএম ও সিআরএম মেশিন নিয়ে ফাষ্ট্র ট্রাক চালু করা হয়েছে। যেখানে গ্রাহকগন টাকা উত্তোলন সহ সয়ংক্রিয়ভবে জমাও করতে পারছেন। পাশাপাশি হিসাব খোলা থেকে শুরু করে অনেকগুলো ব্যাংকিং কাজও এসব ফাষ্ট্র ট্র্যাকে সম্ভব হচ্ছে। ফলে গ্রাহকগন তার সুবিধাজনক স্থানে বেশীরভাগ ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পাদন করতে পারছেন বলে জানিয়ে ডাচ-বাংলা ব্যাংক প্রায় সব ব্যাংকের কার্ডের বিপরীতে টাকা প্রদান করছে বলেও জানান ব্যাংকটির কর্মকর্তা।

তবে সারা দেশের মত বরিশাল অঞ্চলেও এটিএম ও সিআরএম বুথে গ্রাহক সেবা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোন নজরদারী আছে কিনা তা জানা সম্ভব হয়নি।

সূত্র : দৈনিক ইনকিলাব

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved 2018-2026,
Design By MrHostBD
themesba-lates1749691102