আজ আমরা এমন একটি বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছি, যেখানে অনেক অশ্লীল, নোংরা ও জঘন্য বক্তব্য প্রকাশ্যে উচ্চারিত হচ্ছে এবং ক্রমেই তা স্বাভাবিক করে তোলা হচ্ছে। এটি শুধু উদ্বেগজনক নয়, বরং আতঙ্কজনক যে, এই মানসিকতার ধারকরাই ভবিষ্যতে আমাদের দেশ শাসন করবে।
নতুন প্রজন্মের জন্য জায়গা দেওয়া অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রশ্ন হলো—আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ কাদের হাতে তুলে দিচ্ছি? এই প্রজন্মের আদর্শ কী, এবং তারা দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা কতটুকু ধারণ করে? একটি রাষ্ট্র প্রত্যাশা করে যে তরুণ সমাজ নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা ধারণ করবে।
এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, তরুণদের মধ্যে অশালীন ভাষা, সহিংস মনোভাব এবং ইতিহাসবিমুখ আচরণ ক্রমেই বাড়ছে। তারা কি আদৌ আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রকৃত ধারক? এই বিষয়টি গভীরভাবে ভাবার মতো।
আরও উদ্বেগজনক হলো, বর্তমান প্রজন্ম ক্রমেই শিক্ষা-বিমুখ হয়ে পড়ছে। অনেকেই কঠোর পরিশ্রম ও জ্ঞানের পথ ছেড়ে, রাতারাতি অবৈধ বা অনৈতিকভাবে দ্রুত ধনী হওয়ার মোহে ছুটছে। ফলে শিক্ষার মূল্য ক্রমেই তাদের কাছে ফিকে হয়ে যাচ্ছে, এবং ‘শর্টকাট’ জীবন দর্শনে পরিণত হচ্ছে।
ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে, একটি জাতির পতন তখনই শুরু হয় যখন তার তরুণ সমাজ মূল্যবোধ হারায়। আদর্শহীনতা, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও নৈতিক অবক্ষয় ধীরে ধীরে রাষ্ট্রকে ভিতর থেকে ভেঙে দেয়। তাই এটি শুধু প্রজন্মের নয়, সমগ্র সমাজের সতর্কবার্তা।
এই লেখা কোনো প্রজন্মকে অস্বীকার বা আঘাত করার উদ্দেশ্যে নয়। বরং এটি একটি সতর্কবার্তা। এখনই সময় আত্মসমালোচনার—পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ এবং রাষ্ট্র সকলের। নচেৎ আদর্শহীন এই ভবিষ্যৎ একদিন আমাদের সবাইকে প্রভাবিত করবে।