প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে উদ্বৃত্ত উৎপাদনের মধ্যেই বরিশালে চালের দাম বৃদ্ধি | কৃষক-ভোক্তা বিপাকে উদ্বৃত্ত উৎপাদনের মধ্যেই বরিশালে চালের দাম বৃদ্ধি | কৃষক-ভোক্তা বিপাকে
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ন

বরিশালে চালের বাজার পরিস্থিতি: কৃষক-ভোক্তা উভয়েই বিপাকে

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৬
চাল

বরিশাল: আমন মৌসুম প্রায় শেষের পথে হলেও বরিশালের চালের বাজারে নতুন করে দাম বাড়তে শুরু করেছে। পর্যাপ্ত উৎপাদন ও সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি অব্যাহত থাকলেও চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসছে না। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, অন্যদিকে ধানের ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশায় পড়েছেন কৃষকরা।

অতিরিক্ত  উৎপাদন, তবু বাজার অস্থির

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, চলতি আমন মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ২৪ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ১৪ লাখ টন উদ্বৃত্ত। তবে উৎপাদন ভালো হলেও ধানের দাম গত বছরের তুলনায় প্রতিমণে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বিপরীতে গত এক মাসে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে গড়ে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও ওএমএস

গত ছয় মাসে বরিশাল খাদ্য অঞ্চলের পাঁচ লক্ষাধিক সুবিধাভোগীর মধ্যে ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’র আওতায় সরকার প্রায় ৬০ হাজার ৫শ টন চাল বিক্রি করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। একইভাবে আগামী মার্চ ও এপ্রিল মাসেও চাল বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।

খোলা বাজারে বিক্রি কর্মসূচি (ওএমএস)-এর আওতায় খাদ্য অধিদপ্তর প্রতিদিন ৩০ টাকা কেজি দরে চাল এবং ২৪ টাকা কেজি দরে আটা বিক্রি করছে। গত ছয় মাসে এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার ২৭৫ টন চাল ও ৮ হাজার ১৫৩ টন আটা বিক্রি করা হয়েছে।

বিনামূল্যে চাল বিতরণ ও টিসিবি কার্যক্রম

সরকারি সহায়তার অংশ হিসেবে বরিশালের প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার জেলে পরিবারের মাঝে সাড়ে ৮ হাজার টনের বেশি চাল বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অনগ্রসর নারীদের জন্য চলমান খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় গত ছয় মাসে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার টন চাল দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া টিসিবির আওতায় থাকা প্রায় ৫ লাখ ফ্যামিলি কার্ডধারী সুবিধাভোগী গত ছয় মাসে ৩০ টাকা কেজি দরে ৮ হাজার ১৪২ টন চাল পেয়েছেন।

বাজারে সিন্ডিকেটের দাপট

এতসব কর্মসূচির পরও চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসছে না। বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, চালকল মালিক, পাইকার ও ফরিয়াদের একটি অংশ কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে দাম বাড়িয়ে চলেছে। বর্তমানে বরিশালের বাজারে মোটা চালের কেজি ৫০ টাকার ওপরে, মাঝারি মানের চাল ৬০ টাকা এবং মিনিকেটসহ উন্নত মানের চাল ৭৮ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

প্রভাব পড়ছে নিত্যপণ্যের বাজারে

বিশেষজ্ঞদের মতে, চালের দাম বাড়ার প্রভাব পড়ে সামগ্রিক বাজারে। ফলে শীতকালীন সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের দামেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে এসব পণ্যের বাড়তি দামের সুবিধা কৃষকরা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

কৃষকের উৎপাদন খরচও উঠছে না

চলতি খরিপ-২ মৌসুমে বরিশালে প্রতি মণ আমন ধান উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১০০ টাকা। অথচ সেই ধান বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা দরে। এতে উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না অনেক কৃষক।

বাড়ছে ভোগান্তি

রেকর্ড উৎপাদনের পরও চালের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের সংসার চালানো দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে ধানের দরপতনে কৃষকদের হতাশা আরও গভীর হচ্ছে।

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved 2018-2026,
Design By MrHostBD
themesba-lates1749691102