মহাপবিত্র বিশ্ব উরশ শরিফ উপলক্ষে বিশ্ব জাকের মঞ্জিল এখন লাখো মানুষের মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে। গত সোমবার রাতভর ইবাদত-বন্দেগীর পর, আজ মঙ্গলবার সকালে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও বিদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি দরবার শরিফে সমবেত হয়েছেন।
দরবার শরিফ ও এর আশপাশের প্রায় ২৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে এখন শুধু মানুষের ভিড়। সড়ক, নৌ ও রেলপথে যে যেভাবে পারছেন, মুসল্লিরা পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। ফলে আশপাশের প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
দরবার শরিফে রাত ৩টা থেকে রহমতের সময় শুরু হয়ে নিয়মিত ওয়াক্তিয়া নামাজের পাশাপাশি নফল নামাজ, দরুদ শরিফ পাঠ, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফজর ও মাগরিবের পর ফাতেয়া শরিফ পাঠ, মোরাকবা-মোশাহেদা এবং ধর্মীয় আলোচনা ও ওয়াজ মাহফিলেও অংশ নিচ্ছেন মুসল্লিরা।
দরবার শরিফের খাদেমদের পাশাপাশি দেশের বিশিষ্ট উলামায়ে কেরামও এসব অনুষ্ঠানে বয়ান রাখছেন।
এবারের উরশ শরিফে ভারত ও পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জাকেরান ও আশেকানরা অংশ নিয়েছেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার ও জলপাইগুড়ি এলাকা থেকে আলাদা কাফেলায় সহস্রাধিক অনুসারী উরশ শরিফ শুরুর আগেই বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে পৌঁছান।
রেলপথেও বিশেষ ব্যবস্থায় মুসল্লিরা আসছেন। উত্তরবঙ্গের পার্বতীপুর থেকে প্রায় পাঁচ হাজার জাকেরান ও আশেকান নিয়ে ১৬ বগির একটি রিজার্ভ ট্রেন গত শুক্রবার পুকুরিয়া স্টেশনে পৌঁছে। আখেরি মোনাজাত শেষে ট্রেনটি আজ মঙ্গলবার বিকেলে ফিরতি যাত্রায় পার্বতীপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।
দক্ষিণাঞ্চলের বরিশালসহ বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন শতাধিক বাস বিশ্ব জাকের মঞ্জিলমুখী হচ্ছে। বরিশাল–ফরিদপুর–ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের পুকুরিয়া ও তালমা মোড় থেকে শুরু করে ঢাকা–ভাঙ্গা–খুলনা মহাসড়কের মালিগ্রাম অংশ পর্যন্ত যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছেন। তবে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেক সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের ঐতিহ্য অনুযায়ী আগত সকল মুসল্লির জন্য খাবার ও পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতি ঘণ্টায় অন্তত তিন লাখ মানুষের আহারের আয়োজন চলছে, যা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, শুক্রবার জুমা থেকে মঙ্গলবার আসর পর্যন্ত উরশ শরিফে মোট এক কোটির বেশি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে। আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উরশ শরিফ শেষ হলেও আসর নামাজ পর্যন্ত ওয়াজ ও নসিহত চলবে। সে সময় পর্যন্ত বিশ্ব জাকের মঞ্জিলমুখী মানুষের আগমন অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও বিস্তারিত পড়ুন: বিশ্ব জাকের মঞ্জিল উরশ শরিফ