বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের সহকারী পরিচালক সেলিনা বেগম নিয়মিত অফিস ফাঁকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তার দায়িত্বহীনতার কারণে দপ্তরের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযোগটি তদন্ত করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা হলেও সরেজমিনে তার কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ে তিনি অনুপস্থিত থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, কখনো দুপুর ১২টা, কখনো ১টা বা ২টায় অফিসে এসে তিনি কেবল উপস্থিতি নিশ্চিত করে চলে যান।
বেশিরভাগ সময় তার কক্ষ তালাবদ্ধ থাকে এবং ভেতরে শুধু লাইট ও ফ্যান চালু থাকে। এ সময় শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের অন্যান্য অফিস সহকারীরা দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বলছেন, এর ফলে তাদের প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা অনুযায়ী, শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে:
তবে অভিযোগ রয়েছে, সেলিনা বেগম এসব কার্যক্রমে সক্রিয় অংশ নিচ্ছেন না। শুধু কোনো ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হলে তিনি মাঠে এসে সিল ও স্বাক্ষরের মধ্যেই দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখেন।
২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী এস. এম. ওয়াহিদুর রহমান বলেন, “একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করছে। প্রশাসন যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না।”
২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী প্রসেনজিৎ মিত্র বলেন, “শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য অফিসের দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু তারা নিঃশব্দ। অনুমতি নেওয়ার জন্য অফিসে গেলেও পাওয়া যায়নি। অফিস সহকারীর ফোনের পরে এসেছেন।”
শারীরিক শিক্ষা অফিসের পরিচালক মো. আতিকুল্লাহ ফরাজী বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ অন্য কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও শোনা গেছে। আমি নতুন দায়িত্বে এসেছি। তবে অভিযোগ যাচাই করে প্রশাসনকে জানাবো।”
অভিযোগ প্রসঙ্গে সেলিনা বেগম বলেন, “এটি দেখার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের। আপনার নয়। ভবিষ্যতে ভালো হওয়ার আশা করি।”
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম জানিয়েছেন, “আগেও অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। সত্য প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের কার্যক্রম ঠিকভাবে পরিচালনা ও কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে বাধ্য। এছাড়া শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, প্রশাসন সময়োপযোগী ব্যবস্থা নেবে যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি না ঘটে।
আরও পড়ুন: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের দ্বন্দ