বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) এক নারী শিক্ষার্থীকে ঘিরে রসায়ন ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি একপর্যায়ে লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়, এতে অন্তত কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হলের সামনে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সিফাতের ওপর রসায়ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী হঠাৎ করে হামলা চালায়। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করার অভিযোগও উঠেছে।
ঘটনার পর আরও উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি
ঘটনার পরপরই ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে বিকেল ৩টার দিকে বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। তবে আলোচনার পরিবর্তে সেখানে আবারও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষ লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং অন্যান্য বিভাগের কিছু শিক্ষার্থীকেও সংঘর্ষে অংশ নিতে দেখা যায়।
ঘটনার পেছনের কারণ কী?
শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আগের রাতে রসায়ন বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের এক নারী শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বাংলা বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সিফাতের বিরুদ্ধে। মূলত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরদিন সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী শরিফুল ইসলাম জানান, “মীমাংসার জন্য সবাই জড়ো হলেও একসময় পরিস্থিতি আর নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়নি। মুহূর্তের মধ্যেই সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়।”
প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল বলেন,“উভয় পক্ষকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দরিদ্র পিঠা বিক্রেতার দোকান ভাঙচুর
এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে ঘটনাস্থলের পাশে থাকা এক দরিদ্র নারী পিঠা বিক্রেতার দোকান ভেঙে লাঠিসোটা তৈরি করা হয়। এতে তার দোকানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই নারী দোকানি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে শিক্ষার্থীদের এমন সংঘর্ষে সাধারণ মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় উঠেছে। শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
আরও ক্যাম্পাসসংক্রান্ত খবর পেতে ভিজিট করুন
আমাদের শিক্ষাবিষয়ক বিভাগ।






