ভোলার লালমোহন উপজেলার পূর্ব চরউমেদ গ্রামের মো. হোসেন বিশ্বাস (৪৫)। করোনাকালে শহর থেকে গ্রামে ফিরে এসে ধানচাষের জমিতে ফল চাষের সাহসী উদ্যোগ নিয়েছেন। তার পরিকল্পনা ও পরিশ্রমের ফলে ধানজমিতে এখন গড়ে উঠেছে মিশ্র ফলের বাগান, যা এলাকার কৃষিচিত্র বদলে দিয়েছে। হোসেন ১৮০ শতাংশ জমিতে গড়ে তুলেছেন একটি মিশ্র ফলের বাগান।
৬০ শতাংশ জমিতে তিনি অস্ট্রেলিয়ান জাতের বলসুন্দরী কুল, ৪০ শতাংশে চায়না টকমিষ্টি কুল এবং ২০ শতাংশে থাই আপেল চাষ করেছেন।
বাগানটিতে বর্তমানে ৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন।
হোসেনের বাবা জালাল আহমেদ বিশ্বাস (৭১) জানিয়েছেন, করোনার লকডাউনের সময় তার ছেলে ঢাকায় বেকার হয়ে গ্রামে ফিরে এসেছিলেন।
প্রথমে তিনি ফল চাষের বিষয়ে রাজি ছিলেন না, কারণ ১৮০ শতাংশ জমিতে যেখানে ৬০–৭০ মণ ধান হয়, সেখানে লাভের আশ্বাস মেলে না বলে তিনি ভেবেছিলেন।
তিনি বলেছিলেন, ‘ফল তো পাখি ছাড়া কেউ খায় না’।
কিন্তু হোসেনের অনুরোধের পরে শেষ পর্যন্ত তিনি রাজি হন।
এখন তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “ছেলেটি যা করতে চেয়েছিল, সেটি সফল হয়েছে।
ধানজমি থেকেও ফল আনা সম্ভব।”
হোসেনের বাগানটি এখন আশপাশের এলাকা থেকে লোকজন ফল কিনতে আসছেন। একসময় শুধুই ধানচাষ হতো সেই জমিতে এখন লাল, মিষ্টি কুল, আম ও কমলা ফলছে। এই উদাহরণ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও নতুন উদ্যম সৃষ্টি করেছে।
বরিশাল অঞ্চলের কৃষি ও সফল উদ্যোগ সম্পর্কিত আরও খবর পেতে ভিজিট করুন:
প্রিয় বরিশাল