প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে কুয়াকাটায় মৃত জেলিফিশে উপকূলে আতঙ্ক | প্রিয় বরিশাল কুয়াকাটায় মৃত জেলিফিশে উপকূলে আতঙ্ক | প্রিয় বরিশাল
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন

কুয়াকাটায় মৃত জেলিফিশে উপকূলে আতঙ্ক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
জেলিফিশ

কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো অসংখ্য মৃত জেলিফিশ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করে অসংখ্য মৃত জেলিফিশ ভেসে আসায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় জেলে ও পরিবেশকর্মীদের মাঝে।

মঙ্গলবার সকালে তিন নদীর মোহনা, চর বিজয়, গঙ্গামতির চর, লেবুর বন, কাউয়ার চর ও ফাতরার বনসহ একাধিক পয়েন্টে এসব জেলিফিশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

এদিকে স্থানীয় জেলেরা জানান, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেও কিছু জেলিফিশ ভেসে এলেও এবারের সংখ্যা অনেক বেশি এবং আকারেও বড়।

ফলে জাল ফেলা ও তোলা কঠিন হয়ে পড়ছে।

জেলেদের ভোগান্তি বাড়ছে

রহমান মাঝি বলেন, জেলিফিশ এত বেশি যে মাছ ধরতে গিয়ে জালে বারবার আটকে যাচ্ছে। অনেক সময় জাল তুলতেই কষ্ট হচ্ছে।

অন্যদিকে আরেক জেলে হেলাল জানান, মৃত জেলিফিশ তুলতে গিয়ে হাত-পায়ে জ্বালা করছে, পাশাপাশি জালেরও ক্ষতি হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।

কেন মারা যাচ্ছে জেলিফিশ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, গভীর সমুদ্রে ট্রলার ও মা-চিংড়ি আহরণে ব্যবহৃত ট্রলিং জাহাজের জালে আটকা পড়ে ব্যাপকসংখ্যক জেলিফিশ মারা যেতে পারে।

এছাড়া সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার তারতম্য এবং অক্সিজেনের ঘাটতিও বড় কারণ হতে পারে।

তবে জেলেদের ধারণা কিছুটা ভিন্ন। তাদের মতে, সাগরের পানিতে অতিরিক্ত লবণাক্ততা এবং বয়সজনিত দুর্বলতার কারণে অনেক জেলিফিশ স্রোতের বিপরীতে চলতে না পেরে মারা যাচ্ছে।

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যে হুমকি

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক কে এম বাচ্চু জানান, অপরিকল্পিত ট্রলিং ও নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের ফলে সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

ফলে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

কুয়াকাটার ডলফিন রক্ষা কমিটির সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, জেলিফিশ সামুদ্রিক খাদ্যচক্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এদের অস্বাভাবিক মৃত্যু ডলফিনসহ অন্যান্য প্রাণীর জন্য হুমকি তৈরি করছে।

সরকারি উদ্যোগের আশ্বাস

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, অতিরিক্ত ট্রলিং ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

প্রয়োজনে সাগরে জরিপ চালিয়ে প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা হবে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. মো. সাইফুল ইসলাম জানান, জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষের কর্মকাণ্ড—দুটিই এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।

সবশেষে স্থানীয়রা দ্রুত গবেষণা ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন, যাতে কুয়াকাটার সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষা করা যায়।

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved 2018-2026,
Design By MrHostBD
themesba-lates1749691102