যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনকে ঘিরে আবারও নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
এবার কারণ—মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশ করা বিপুল পরিমাণ গোপন নথি ও একটি অজানা ভিডিও ফুটেজ।
ফলে, দীর্ঘদিন ধরে চাপা থাকা অনেক প্রশ্ন ফের সামনে চলে এসেছে।
২০১১ সালে নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এপস্টিন নিজেকে “যৌন শিকারী” বলতে অস্বীকার করেন।
বরং তিনি নিজেকে “যৌন অপরাধী” আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি নাকি একজন খুনি ও একজন বেকারি পণ্য চোরের পার্থক্যের মতো।
এই মন্তব্য তখন যেমন বিতর্ক তৈরি করেছিল, এখনো তেমনি ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে।
২০১৯ সালের ১০ আগস্ট, জামিনের সুযোগ ছাড়াই বিচার অপেক্ষমাণ অবস্থায় নিউ ইয়র্কের একটি কারাগারে মারা যান এপস্টিন।
তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের দিয়ে যৌন কার্যক্রম চালানোর একটি “বিশাল নেটওয়ার্ক” পরিচালনার অভিযোগ ছিল।
যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেই মৃত্যুবরণ করেন।
গত বছরের নভেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষ
এপস্টিন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট অনুমোদন করে।
এরপর, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিলে স্বাক্ষর করেন,
যার মাধ্যমে বিচার বিভাগকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্তসংক্রান্ত নথি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর ধারাবাহিকতায় গত ৩০ জানুয়ারি মার্কিন বিচার বিভাগ ৩০ লাখেরও বেশি নথি প্রকাশ করে।
এসব নথির মধ্যে একটি প্রায় দুই ঘণ্টার ভিডিও ফুটেজ বিশেষভাবে দৃষ্টি কেড়েছে।
ভিডিওতে এক পর্যায়ে এপস্টিনকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি নিজেকে শয়তান মনে করেন কি না।
উত্তরে তিনি বলেন, “আমার একটা ভালো আয়না আছে।”
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ জানান,
“একটি অত্যন্ত বিস্তৃত নথি সনাক্তকরণ ও পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার” মাধ্যমেই এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে ভিডিওটি কে ধারণ করেছেন, কখন ও কী উদ্দেশ্যে—সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
সব মিলিয়ে, এই নথি প্রকাশ এপস্টিন কেলেঙ্কারির পুরোনো ক্ষতকে আবারও সামনে এনেছে।
এদিকে, বিশ্বজুড়ে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার ও ক্ষমতাধরদের জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা।