বাংলাদেশ পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তন নিয়ে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
তড়িঘড়ি করে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়ে তারা বলছেন, বর্তমান পোশাকটি পুলিশের ঐতিহ্য ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে মানানসই নয়।
বরং ২০০৪ সালের সেই পরিচিত খাকি পোশাকেই ফিরে যেতে আগ্রহী বাহিনীর সিংহভাগ সদস্য।
সম্প্রতি পুলিশের নতুন ইউনিফর্মের রঙ ও নকশা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পোশাক নিয়ে নানা ধরনের ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করা হচ্ছে।
এতে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা চরম মানসিক অস্বস্তিতে ভুগছেন। তারা মনে করছেন, এই পোশাক বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।
সোমবার রাতে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, “বাহিনীর বেশিরভাগ সদস্যই এই অপরিকল্পিত পরিবর্তনের পক্ষে নন।
বর্তমান ইউনিফর্মটি চয়ন করার সময় পুলিশের মতামত, আবহাওয়া এবং সদস্যদের গায়ের রঙ উপেক্ষা করা হয়েছে।”
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, বর্তমান পোশাকটি অন্য কিছু বাহিনীর ইউনিফর্মের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।
এর ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে পুলিশ সদস্যদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
অথচ ২০০৩-০৪ সালে প্রবর্তিত খাকি পোশাকটি দীর্ঘ গবেষণার পর নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা রোদ-বৃষ্টি বা রাতের ডিউটিতেও সহজে দৃশ্যমান হতো।
আরও পড়ুন: পুলিশের আধুনিকায়নে নতুন পদক্ষেপ
পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, পুরো বাহিনীর পোশাক পরিবর্তন একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বিপুল অর্থ অপচয় না করে তা থানার লজিস্টিকস সাপোর্ট বৃদ্ধি, যানবাহন সরবরাহ এবং আধুনিকায়নে ব্যয় করা অধিক যুক্তিযুক্ত।
তাদের মতে, পোশাকের চেয়ে পুলিশ সদস্যদের মানসিকতা ও পেশাদারিত্বের উন্নয়নই এখন বেশি প্রয়োজন।
পরিশেষে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন।
তারা চায়, জনমত যাচাই ও বাস্তবসম্মত গবেষণার মাধ্যমে পুলিশের ঐতিহ্যবাহী খাকি পোশাক ফিরিয়ে আনা হোক অথবা সবার মতামতের ভিত্তিতে নতুন কোনো সম্মানজনক সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।