বরিশাল নগরীতে শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মশার অস্বাভাবিক বিস্তারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নগরবাসী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আজ রবিবার থেকে নগরজুড়ে বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ শুরু করেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। ১২টি জরুরি দলের মাধ্যমে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ জানিয়েছে, ৩০টি ওয়ার্ডের প্রায় ৫৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় একযোগে এই কার্যক্রম চলবে।
প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে ফগার মেশিনের সাহায্যে উড়ন্ত মশা নিধন এবং জলাশয়ে লার্ভিসাইড প্রয়োগ করা হচ্ছে।
পরিদর্শক মোহাম্মদ আলী জানান, প্রতিদিন অন্তত ২২০ লিটার ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে যাতে মশার লার্ভা ও বড় মশা উভয়ই ধ্বংস হয়।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে আপনার যা জানা জরুরি
নগরবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হলেও মশার উপদ্রব কমছে না।
বিশেষ করে নির্মাণাধীন ভবন এবং মৃতপ্রায় খালগুলো মশার প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) মতে, নগরের সচল খালের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবং পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থবির হওয়ায় মশক নিধন কার্যক্রম আশানুরূপ ফল দিচ্ছে না।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বরিশালে গত বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৮১৫ জন, যার মধ্যে ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা ২৫১ ছাড়িয়েছে।
সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. মনজুরুল হক জানান, মশার প্রতিরোধক্ষমতা রুখতে এবার ‘নতুন ভ্যারাইটির’ ওষুধ ব্যবহার শুরু হয়েছে।
পরিশেষে, মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের চেষ্টার পাশাপাশি নাগরিকদের নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা গেলে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।