বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কলাডেমা এলাকায় কয়েকটি বিশালাকৃতির হেলে পড়া গাছকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
দীর্ঘদিন ধরে গাছগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও মালিকপক্ষ তা অপসারণে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
ফলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণহানি ও সরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজী মতিয়ার রহমান, কাজী বাচ্চু, কাজী সাগর ও কাজী খোকনের মালিকানাধীন জমিতে থাকা গাছগুলোর গোড়ায় পর্যাপ্ত মাটি নেই।
ফলে ভারসাম্য হারিয়ে গাছগুলো পাশের বসতঘর, বাণিজ্যিক গোডাউন এবং বিদ্যুৎ লাইনের ওপর হেলে পড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, এর আগেও গাছ ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যার ফলে পুরো এলাকা বেশ কয়েক দিন অন্ধকারে ছিল।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, গাছগুলো কাটার জন্য সিটি করপোরেশনের মৌখিক নির্দেশনা থাকলেও মালিকপক্ষ তা মানছে না।
এ বিষয়ে মালিক কাজী মতিয়ার রহমান জানান, “গাছের ভালো দাম পেলেই ব্যবস্থা নেব।”
অথচ এই ‘ভালো দামের’ অপেক্ষায় কেটে গেছে দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর। পরিবারের অন্য সদস্যরাও একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে গাছ কাটার বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা কাজী রাসেল ও কাজী তুহিন জানান, ঝোড়ো বাতাস ছাড়াই মেহগনি গাছের ফল ও ডাল পড়ে তাদের টিনশেড ঘর ও জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
ভাড়াটিয়ারা ভয়ে এলাকা ছাড়ছেন।
এমনকি বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে মালিকপক্ষ দুর্ব্যবহার ও হুমকি প্রদান করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসী এখন আইনের আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে বরিশাল সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী যেকোনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা অপসারণের ক্ষমতা সিটি করপোরেশনের রয়েছে।
লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।