পবিত্র মাহে রমজান আমাদের সংযম ও সাম্যের শিক্ষা দিলেও বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) এক ইফতার মাহফিলে দেখা গেছে ঠিক তার উল্টো চিত্র। ইফতারের মেন্যু নিয়ে ধনী-দরিদ্র এবং উচ্চপদস্থ ও নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন তৈরির অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে বর্তমানে নগরজুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়।
জানা গেছে, গত ৪ মার্চ শহীদ মিনার সংলগ্ন সিটি করপোরেশন অডিটোরিয়ামে এই ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের ভিভিআইপি ও ভিআইপি টেবিলের মেন্যুতে ছিল রাজকীয় আয়োজন।
সেখানে ডাবের পানি, মাছ ফ্রাই, মুরগির টিক্কা, স্পেশাল কাচ্চি বিরিয়ানি এবং কয়েক পদের জুসসহ বাহারি খাবার পরিবেশন করা হয়।
অন্যদিকে, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ ছিল খুবই সামান্য আয়োজন।
তাদের মেন্যুতে ছিল মাত্র একটি জুসের প্যাকেট, পানি, সামান্য খেজুর এবং একটি তেহারির প্যাকেট।
ফলস্বরূপ, একই ছাদের নিচে দুই ধরনের আপ্যায়ন দেখে কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, শহরের পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত কর্মীদের এই ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা আক্ষেপ করে বলেন, “ইফতারের মতো একটি পবিত্র কাজে এমন বৈষম্য আমাদের জন্য লজ্জাজনক।”
সমালোচকরা বলছেন, যেখানে রমজানের মূল উদ্দেশ্য হলো শ্রেণি বৈষম্য ভুলে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো, সেখানে সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের এমন আচরণ দুঃখজনক।
সাধারণত ইফতার মাহফিলগুলোতে সবার জন্য অভিন্ন মেন্যু থাকার কথা থাকলেও বরিশাল সিটি করপোরেশন যেন এখানে শ্রেণি বিভেদকে আরও প্রকট করে তুলেছে।
তবে এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: বরিশালের স্থানীয় সংবাদ ও সমসাময়িক খবর