বরিশালে লিবিয়ার দানবীয় মিষ্টি কুমড়া নিয়ে তোলপাড়
বরিশালের রাস্তায় হঠাৎ দেখা মিলল বিশালাকৃতির সব মিষ্টি কুমড়া। যেগুলোর একেকটির ওজন ৪০ থেকে ৫০ কেজি! লিবিয়া থেকে আনা বিশেষ জাতের এই কুমড়া দেখতে যেমন ভিড় জমছে, তার চেয়েও বেশি হিড়িক পড়েছে এর বীজ সংগ্রহের। মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক চাষি এই দানবীয় কুমড়া ফলিয়ে এখন বরিশালের অলিগলিতে ভ্যানে করে বিক্রি করছেন।
প্রবাসী আত্মীয়ের হাত ধরে আসা বীজ
পাথরঘাটার গৌরিচন্না এলাকার বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান। লিবিয়া প্রবাসী এক নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে এই বিশেষ জাতের মিষ্টি কুমড়ার বীজ এনেছিলেন তিনি।
এরপর কৃষি বিজ্ঞানীদের পরামর্শ মেনে গভীর মমতায় গড়ে তোলেন তার বাগান।
কঠোর পরিশ্রমের ফল হিসেবে তার বাগানে ফলেছে চোখ ধাঁধানো এই বড় বড় মিষ্টি কুমড়া।
বীজ বিক্রিতেই বেশি আগ্রহ
আশ্চর্যের বিষয় হলো, মানুষ আস্ত কুমড়া কেনার চেয়ে এর বীজ সংগ্রহে বেশি আগ্রহী।
মোস্তাফিজুর রহমানও সুযোগ হাতছাড়া করেননি।
তিনি ৪টি বীজ ২০ টাকা এবং ১২টি বীজ ৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।
বরিশালের বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরে ঘুরে বীজ বিক্রির সময় উৎসুক মানুষের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।
ফলনের সম্ভাবনা নিয়ে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে, সাধারণ উন্নত জাতের মিষ্টি কুমড়া হেক্টর প্রতি ৩০-৪৯ টন ফলন দিলেও, লিবিয়ার এই জাতটি রীতিমতো বিস্ময়কর।
মাঠ পর্যায়ের কৃষিবিদদের ধারণা, সঠিক তত্ত্বাবধানে এই জাত থেকে হেক্টর প্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টনেরও বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব।
বর্তমানে আমাদের দেশের উচ্চ ফলনশীল জাতগুলোর মিষ্টতা (TSS) যেখানে ১০-১১.১০%, সেখানে এই জাতটি কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
আরও পড়ুন: কৃষি ক্ষেত্রে নতুন বিপ্লব ও উন্নত জাতের চাষাবাদ
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, ব্যক্তিগত উদ্যোগে আনা এই বীজ যদি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা যায়, তবে দেশের সবজি উৎপাদনে এটি বড় ভূমিকা রাখবে।
তবে এই বিশাল আকৃতির সবজি সাধারণ মানুষের মধ্যে যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে, তা সত্যি অভাবনীয়।






