বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের ২৫০ শয্যার নতুন ভবন নির্মাণের সময়সীমা পেরিয়ে গেছে প্রায় চার বছর আগে। ১৮ মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৪৮ মাস পার হয়ে গেলেও এখনো আলোর মুখ দেখেনি প্রকল্পটি। গণপূর্ত অধিদপ্তরের এই ধীরগতির কারণে দক্ষিণাঞ্চলের হাজারো মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্তমান ১০০ শয্যার হাসপাতালে ঠাঁই না হওয়ায় অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০২২ সালে প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ তলা বিশিষ্ট এই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে গণপূর্ত অধিদপ্তর।
পরিকল্পনা অনুযায়ী মাত্র ১৮ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নতুন ভবনের নির্মাণকাজ এখনো অর্ধেকও শেষ হয়নি।
তবে গণপূর্ত বিভাগের দাবি, প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি কাজ চলতি বছরের মধ্যেই শেষ করা হবে।
শত বছরের পুরোনো এই হাসপাতালটি ১৯১২ সালে যাত্রা শুরু করে।
বর্তমানে ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন কয়েক শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন এবং বহির্বিভাগে ৬০০ থেকে ৭০০ রোগী চিকিৎসা নেন।
শয্যা সংকটে নাজেহাল রোগীরা।
চরবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা দুলাল হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, “তিন দিন ধরে মেঝেতে আছি, কোনো সিট পাইনি।
এভাবে চিকিৎসা নেওয়া খুবই কষ্টকর।” একইভাবে দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা রাসেল সরদারও।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মলয় কৃষ্ণ বড়াল জানান, স্থান সংকুলানই এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা।
অন্যদিকে, বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম বলেন, “আর্থিক জটিলতার কারণে কাজ কিছুটা পিছিয়ে ছিল। তবে নিয়ম মেনে দ্রুতই কাজ শেষ করা হবে।”
এছাড়া ডা. এস এম মনজুর এ এলাহী জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সেবা চালুর চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন: দক্ষিণাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সংকট