আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে বরিশাল মহানগরীতে যানবাহনের চাপ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। ফলে গত কয়েক দিন ধরে তীব্র যানজটে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নগরীর বাসিন্দারা। বিশেষ করে রোজার মধ্যে দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থেকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর সদর রোড, বিবির পুকুরপাড় এবং জেলখানা মোড় এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় গাড়ি থমকে থাকছে।
কালু শাহ সড়কের বাসিন্দা শারমিন আফরোজ মনি জানান, মাত্র ১০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে তার আধা ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে। যানজটের কারণে অনেককে রিকশা ছেড়ে হেঁটেই গন্তব্যে রওনা হতে দেখা গেছে।
এমনকি পাড়া-মহল্লার সরু সড়কেও জটের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে, ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক ভুক্তভোগী।
সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ফারুকুল ইসলাম জানান, ট্রাফিক সদস্যদের অদক্ষতা এবং অপরিকল্পিত সিগন্যালের কারণে যানজট পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।
বিবির পুকুরপাড় এলাকায় আটকে থাকা বৃদ্ধ আফতাব হোসেন জানান, কয়েক দিন ধরে নগরের এই পরিস্থিতি সহ্য ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগের তথ্যমতে, বরিশাল নগরীর সড়কগুলোতে ৫ হাজার যানবাহন চলাচলের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে চলছে অন্তত ৩৫ হাজার।
এর মধ্যে বৈধ সিএনজি ও অটোরিকশার সংখ্যা মাত্র সাড়ে ৭ হাজার। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় ২৭ হাজার অতিরিক্ত যানবাহন নগরীর সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
ঈদে বাইরের জেলা থেকে আসা অতিরিক্ত গাড়ি এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ যানজটের জন্য ছয়টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে।
এর মধ্যে রয়েছে ফুটপাত দখল, শপিংমলগুলোর নিজস্ব পার্কিং না থাকা এবং চালকদের অসচেতনতা।
উপকমিশনার (ট্রাফিক) শরীফ উদ্দিন জানান, মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দুটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।
সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এই বিশেষ দল যানজট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে।
বর্তমানে নগরীর রূপাতলী, নথুল্লাবাদ, নতুন বাজার এবং পোর্ট রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
তবে ফুটপাত দখলমুক্ত না হলে এবং অবৈধ পার্কিং বন্ধ না হলে এই ভোগান্তি কমানো চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।