বরিশাল নগরীসহ পাশ্ববর্তী জেলা-উপজেলাগুলোতে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।
তীব্র তাপদাহের মধ্যে ‘এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে, পরের ঘণ্টা নেই’—এমন পরিস্থিতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং শিল্প-কারখানার মালিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি হলেও আর্দ্রতার কারণে তা ৪৪ ডিগ্রির মতো অনুভূত হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অসহনীয় করে তুলেছে।
ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) সূত্র জানায়, প্রায় এক মাস ধরে জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।
রূপাতলী সাবস্টেশনে ১০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫১ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়ে পালাক্রমে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
গ্রামীণ এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ; সেখানে টানা ২-৩ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না বলে জানা গেছে।
সংকটে পানি সরবরাহ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বরিশাল সিটি করপোরেশনের পানি উত্তোলন ও সরবরাহ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
পাম্পগুলো পর্যাপ্ত সময় চালানো না যাওয়ায় নগরীতে খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, মোবাইল টাওয়ারগুলোর আইপিএস ব্যাকআপ চার্জ হতে না পারায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এবং সন্ধ্যা ৭টায় দোকান বন্ধের বাধ্যবাধকতায় তারা পুঁজি হারানোর শঙ্কায় আছেন।
বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কৃষি সেচ ও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়ছে।
জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট মিলে বরিশালের সার্বিক যোগাযোগ ও উৎপাদন ব্যবস্থা এখন চরম অচলাবস্থার মুখে।
আরও পড়ুন: বরিশালের স্থানীয় সংবাদ ও সমসাময়িক আপডেট