জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে চলাচলের চিরাচরিত নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
জ্বালানি সাশ্রয় করতে লঞ্চের গতি কমিয়ে দেওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে অনেক দেরিতে ঘাটে পৌঁছাচ্ছে নৌযানগুলো।
আজ সকালে বরিশাল লঞ্চঘাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চগুলো নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২ ঘণ্টা পর ঘাটে এসে ভিড়ছে।
ভোর ৪টার মধ্যে যেখানে লঞ্চগুলো ঘাটে পৌঁছানোর কথা,
সেখানে আজ অধিকাংশ লঞ্চ সকাল ৫টা ৪০ মিনিটের পর বরিশাল ঘাটে এসে পৌঁছায়।
হঠাৎ এই সময় পরিবর্তনের ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা।
বিশেষ করে যারা ভোরে ঘাটে নেমে জরুরি কাজে বা কর্মস্থলে যোগ দিতে চেয়েছিলেন তাদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।
ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব ও ধীরগতি
লঞ্চ মালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১৮ এপ্রিল ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করায় প্রতি ট্রিপে তাদের খরচ বেড়েছে এক লাখ টাকারও বেশি।
এই অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দিতে এবং তেলের অপচয় রোধে মাস্টাররা এখন ধীরগতিতে লঞ্চ চালাচ্ছেন।
মালিক সমিতির মহাসচিব সিদ্দিকুর রহমান জানান,যাত্রী সংকট এবং পরিচালন ব্যয় ৫০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় লঞ্চ ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইতিমধ্যেই লঞ্চ ভাড়া সর্বোচ্চ ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে বিআইডব্লিউটিএ-কে চিঠি দিয়েছে লঞ্চ মালিক সমিতি।
ভাড়া সমন্বয়ের আগে খরচ কমাতে ধীরগতির এই কৌশল অবলম্বন করছেন অনেক মালিক।
তবে সাধারণ যাত্রীদের দাবি, ভাড়া বাড়ানোর আগেই এভাবে সময়ক্ষেপণ করে যাত্রীদের হয়রানি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।