হিযবুল্লাহ ছারছীনা শরীফের পীর ছাহেব কেবলা আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতী শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা. জি. আ.) বলেছেন, অনেকে তরীকা মশক করেন কিন্তু মজা পান না।
তিনি উল্লেখ করেন, ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য হালাল রুজি অত্যাবশ্যক। হরেক পদে খাদ্য গ্রহনের চেয়ে হালাল রুজির সাধারণ ডাল-ভাত শ্রেয়।
তিনি পূর্বের আওলিয়ায়ে কেরামের উদাহরণ দিয়ে বলেন, তাঁরা জীবন ধারণের জন্য প্রায়ই গাছের পাতা খেতেন এবং নির্জনে পাহাড়-জঙ্গলে ইবাদতে লিপ্ত থাকতেন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত তিনটায় আখেরী মুনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে ছারছীনা দরবার শরীফের মাঘ মাসের তিনদিনব্যাপী ঈছালে ছাওয়াব মাহফিল।
আখেরী মুনাজাতের পূর্বে দুই ঘন্টাব্যাপী মনোজ্ঞ মিলাদ মাহফিলে পীর ছাহেব এই কথা বলেন।
তিনি বর্তমান সময়ে সমাজে ছড়িয়ে পড়া সুদ-ঘুষের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করে বলেন, দেশের ও বিশ্বের সুদভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থার কারণে ইসলামের নামে পরিচালিত কোনো ব্যাংকই সুদের সন্দেহমুক্ত নয়।
তাই নিরাপত্তার স্বার্থে কারেন্ট একাউন্টে টাকা রাখার পরামর্শ দেন এবং সেভিংস বা ডিপোজিটমূলক পলিসি গ্রহণে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।
এছাড়া হাদিয়া-তোহফা ও দাওয়াতের ক্ষেত্রে উপার্জন হালাল নয় এমন ব্যক্তিদের হাদিয়া গ্রহণ বা দাওয়াত না খাওয়ার পরামর্শ দেন।
পীর ছাহেব ভাই-মুহিব্বীনদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমরা কোন দলীয় রাজনীতি করি না।
সকল দল ও মত নির্বিশেষে সবাই আমাদের দরবারে দোয়া নেয়ার জন্য আসতে পারেন। আমাদের দরবার সকলের জন্য উম্মুক্ত।”
আখেরী মুনাজাতে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা, বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সিনিয়র ও নায়েবে আমীরবৃন্দ, ছারছীনা দরবারের প্রবীণ আলেমগণ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
গভীর রজণীতে তাহাজ্জুদের সময়ে মুনাজাতে রোনাজারীর এক অনন্য দৃশ্যের অবতারণা হয়।
প্রায় আধাঘন্টাব্যাপী মুনাজাতে উপস্থিতরা বিগত জীবনের গোনাহখাতা মাফ চেয়ে অশ্রুর বন্যা বহায় এবং নিশির নিস্তব্ধ আকাশে কান্নার ঢেউ সৃষ্টি করে।
পীর ছাহেব দেশের শান্তি, শৃংখলা, স্বাধীনতা ও কল্যাণ কামনায় বারবার আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানান।
মুনাজাতে উপস্থিত সকলের “আমীন আমীন” ধ্বণীতে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে।