বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির (বিআরইউ) অফিশিয়াল ফেসবুক গ্রুপ থেকে এক সহযোগী সদস্যকে রিমুভ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মূলত, সংগঠনের চাঁদার ব্যবহার ও সদস্য পদ প্রাপ্তি নিয়ে যৌক্তিক প্রশ্ন তোলায় এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক ওমর ফারুক সাব্বির খান বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে বরিশাল আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
একই সাথে, তিনি এই কমিটির সবাইকে আইনের মুখোমুখি করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এক স্ট্যাটাসে এই বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সহযোগী সদস্য ওমর ফারুক সাব্বির খান।
সেখানে তিনি সংগঠনের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জনাব খালিদ সাইফুল্লাহর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করেন।
মূলত, সাধারণ সম্পাদকের মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিএনপি নেতাদের তোষামদি করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখার লড়াই করছেন বলে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করা হয়।
চাঁদার হিসাব ও গঠনতান্ত্রিক নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন
ফেসবুক পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি সংগঠনের দপ্তর থেকে সদস্যদের বাকি থাকা চাঁদা পরিশোধের জন্য তাগিদ দেওয়া হয়।
এর জবাবে ওমর ফারুক সাব্বির খান অফিশিয়াল গ্রুপেই প্রশ্ন তোলেন—সংগঠন সদস্যদের থেকে যে চাঁদা নেয়, তা সদস্যদের কোনো উপকারে খরচ করা হয় কি না?
একই সাথে, সংগঠনের নিয়মানুযায়ী ৬ মাস পর সহযোগী সদস্যদের মধ্য থেকে যোগ্যতা যাচাই করে পূর্ণাঙ্গ সদস্য পদের জন্য বিবেচনা করার কথা থাকলেও তা কেন করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তিনি তোলেন।
মূলত, এই দুটি গঠনতান্ত্রিক প্রশ্ন করার পরই তাকে গ্রুপ থেকে রিমুভ করে দেওয়া হয়।
সাধারণ সম্পাদকের ভাইরাল ছবি নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি
এদিকে, ওই ফেসবুক পোস্টে সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহর একটি অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার প্রসঙ্গটিও টেনে আনেন সাব্বির খান।
তিনি দাবি করেন, ছবিটি এআই (AI) দ্বারা তৈরি বলে সাধারণ সম্পাদক দাবি করলেও, এআই ছবি যাচাইকরণ সাইটগুলো বলছে এটি ৯৭ শতাংশ অরিজিনাল।
মূলত, কোনো এক নারীকে গোপনাঙ্গের ভিডিও পাঠানোর দৃশ্য এটি।
সহযোগী সদস্য হিসেবে প্রথমে বিষয়টি এড়ানোর চেষ্টা করলেও, গ্রুপ থেকে অন্যায়ভাবে রিমুভ করায় তিনি এখন আইনের আশ্রয় নিচ্ছেন।
আদালতে যাওয়ার ঘোষণা ও ক্ষোভ
অন্য দিকে, কোনো প্রকার কারণ দর্শানোর নোটিশ না দিয়ে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে গ্রুপ থেকে বের করে দেওয়ায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী এই সাংবাদিক।
তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি বরিশাল আদালত পর্যন্ত যাবেন এবং এই কমিটির দায়িত্বে থাকা সবাইকে আইনের মুখোমুখি করবেন।
মূলত, একজন পেশাদার সাংবাদিকের বাকস্বাধীনতা ও গঠনতান্ত্রিক অধিকার হরণ করার এই ঘটনাটি এখন বরিশালের গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন: বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি, সাংবাদিক সংগঠন ও স্থানীয় সব সর্বশেষ খবর