বরিশালের প্রায় এক হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে প্রায়ই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মাতৃমন্দির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একাধিক কক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। মুকুল স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও একই দৃশ্য দেখা গেছে। জরাজীর্ণতার কারণে এই বিদ্যালয়ের একাধিক শ্রেণীকক্ষ বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে চরম কক্ষ সংকটে শিক্ষা কার্যক্রম দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিভাগের আরও ৯৫৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। ভাঙাচোরা ছাদ ও দেয়ালের কারণে কোমলমতি শিশুরা চরম আতঙ্ক নিয়ে ক্লাসে অংশ নিচ্ছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে তাদের উপরের ক্লাস ভেঙে গেছে। এখন বাধ্য হয়ে তারা নিচতলায় ক্লাস করছে। দোতলার দেয়াল ও ভিম ফেটে ফেটে যাওয়ায় তাদের ভয় কাজ করে। যে কোনো সময় ছাদ ভেঙে মাথায় পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে।
এদিকে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের প্রায় পাঁচ হাজার পদ শূন্য রয়েছে। এর ফলে বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এক প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষককে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। শিক্ষক নেতারা অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পুনর্নির্মাণ ও শূন্য পদ পূরণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার ও শিক্ষক নিয়োগের কাজ শুরু হবে। ৩৫০ জন শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও আট হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়াও শূন্য থাকা প্রধান শিক্ষক পদগুলো দ্রুত পদায়নের মাধ্যমে পূরণ করা হবে বলে তারা আশ্বাস দিয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের তথ্য মতে বরিশাল বিভাগে মোট ছয় হাজার দুইশত তেতাল্লিশটি বিদ্যালয়ে পদ শূন্য রয়েছে। এই রকম সংবাদ আরও পড়তে ভিজিট করুন www.priyobarishal.com