বরিশাল: বরিশাল বিভাগের তিনটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাড়িতে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি সেমিস্টার থেকে গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।
স্থানীয় সুশীল সমাজ মনে করছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কড়া তদারকি জরুরি। ইউজিসি বলেছে, স্থায়ী সনদ (ডিগ্রি অনুমোদন) পেতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবশ্যই নিজস্ব ক্যাম্পাস থাকতে হবে।
বরিশাল বিভাগের বেসরকারি শিক্ষার খাতটি ২০১৫ সালে গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ দিয়ে শুরু হয়। এর পরে ২০১৭ সালে গ্লোবাল ভিলেজ এবং ২০১৮ সালে ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি চালু হয়। তবে শুরু থেকে এই তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমই চলছে ভাড়া বাড়িতে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাস স্থাপনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবায়ন হয়নি। অনেকে বলেন, নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে সেশনও দীর্ঘায়িত হয়ে যাচ্ছে।
গ্লোবাল ভিলেজের উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল বাকী জানিয়েছেন, “প্রাথমিক সময়ে যে সময় দেওয়া হয়েছিল, সেটি পার হয়ে গেছে। এছাড়া বর্ষার কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।”
সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়মিত তদারকির আওতায় আনা উচিত। বরিশাল উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক এবায়দুল হক চান, “বরিশালের এই তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় যেন সরকারি নিয়মনীতি মেনে কাজ করে, সেই দিকে দৃষ্টি দেওয়া হোক।”
ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ জানান, “নিজস্ব স্থানে যাওয়ার অগ্রগতি নিয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করেছি। তারা জানিয়েছে, কাজ চলমান আছে এবং বড় আকারের ক্যাম্পাস নির্মাণের চেষ্টা চলছে। আশা করি শিগগিরই অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধান হবে।”
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠার সাত বছরের মধ্যে নিজস্ব ক্যাম্পাস না হলে ইউজিসির সুপারিশে সময়সীমা বাড়ানো সম্ভব। তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এ সুযোগের অপব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।