বিদেশের মাটিতে রোদে পুড়ে, ঘামে ভিজে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন বুকে নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন মিজানুর রহমান। চোখভরা ছিল ভালো দিনের আশা, বুকভরা ছিল আপনজনদের জন্য বেঁচে থাকার দৃঢ় প্রত্যয়। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সৌদি আরবের ইয়াম্বো শহরে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান মিজানুর রহমান (৩০)। তিনি বরিশাল জেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বটতলা এলাকার বাসিন্দা আলমগীর শরীফের বড় ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর তাকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা রয়েছে।
প্রায় এক বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে যান মিজানুর। গ্রামের সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে আসা এই যুবক বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করতেন শুধুমাত্র পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার আশায়। নিজের কষ্টের কথা কখনো প্রকাশ করতেন না,কারণ তার স্বপ্ন জুড়ে ছিল বাবা-মা, স্ত্রী আর ছোট্ট শিশুকন্যাটি।
মিজানুরের মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে পরিবার। প্রবাসে থাকা সন্তানের কণ্ঠ শোনার অপেক্ষায় থাকা বাবা-মায়ের ঘরে নেমে আসে গভীর নীরবতা। স্ত্রী বারবার প্রশ্ন করছেন—এত তাড়াতাড়ি সব শেষ হয়ে যাবে কেন? আর সাড়ে তিন বছরের অবুঝ কন্যাটি এখনও জানে না, বাবার কোলে ওঠার দিনগুলো আর কখনো ফিরে আসবে না।
নিহতের চাচা সালাম শরীফ বলেন, “মিজানুর ছিল পরিবারের ভরসা। বড় ছেলে হিসেবে সব দায়িত্বই তার কাঁধে ছিল। সে শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো পরিবারের জীবন বদলানোর স্বপ্ন দেখত।”
চাঁদপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান সবুজ জানান, “মিজানুর রহমান ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও
দায়িত্ববান একজন যুবক। পরিবারের কথা ভেবেই তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন। তার এই অকাল মৃত্যু আমাদের সবাইকে শোকাহত করেছে।”
মিজানুর রহমান রেখে গেছেন স্ত্রী, সাড়ে তিন বছরের এক কন্যা, দুই ভাই, তিন বোনসহ অসংখ্য স্বজন। তার উপার্জনের ওপর নির্ভর করেই চলত পরিবারের বড় একটি অংশ। হঠাৎ এই মৃত্যুতে পরিবারটি পড়েছে চরম অনিশ্চয়তা ও অসহায়তার মুখে।
এদিকে শোকাহত পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। স্বজনদের একটাই দাবি—শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেশের মাটিতে দাফন করার সুযোগ।