বরিশাল: সামাজিক বন বিভাগে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল নিয়োগের চিঠি গ্রহণ না করার ঘটনায় বন অধিদপ্তর তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। এই বিষয়ে বরিশাল ক্রাইম নিউজসহ বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ২২ ডিসেম্বর সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।
প্রধান বন সংরক্ষক মোঃ আমীর হোসাইন চৌধুরীর ৮ জানুয়ারির স্মারক অনুযায়ী, গ্লোবাল ফাস্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের কর্ণধার মোহাম্মদ আলী হাওলাদার সামাজিক বন বিভাগে জনবল নিয়োগ চিঠি গ্রহণ না করার অভিযোগ জমা দিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিযোগটি সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রধান বন সংরক্ষকের দপ্তরে জমা দিতে হবে।
বর্তমান বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জামিল খান জানিয়েছেন, “তদন্ত কমিটির গঠন সংক্রান্ত চিঠি আমি এখনও পাইনি। তবে বিষয়টি সম্পর্কে শুনেছি।” অন্যদিকে, কোস্টাল সার্কেল বরিশালের কর্মকর্তা মিহির কুমার দো জানিয়েছেন, “আমি এখন মিটিংয়ে ব্যস্ত, পরে ফোন দিয়ে বিস্তারিত বলব।”
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) ড. জাহিদুর রহমান মিয়া দায়িত্বকালীন সময়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন না করা, আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগে বাধা সৃষ্টি এবং সরকারি দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
ঠিকাদার সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফায় ৬ জন কর্মী নিয়োগের পর অতিরিক্ত ২ জন মালী নিয়োগের জন্য ড. জাহিদুর রহমান মিয়া লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ৮ ডিসেম্বর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার সময় বরিশাল সামাজিক বন বিভাগ তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়।
ঠিকাদার জানিয়েছেন, দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করলেও কোনো কর্মকর্তা নিয়োগপত্র গ্রহণ করেননি। প্রধান সহকারী মো. লুৎফর রহমান একপর্যায়ে অফিস ত্যাগ করেন এবং ক্যাশিয়ার উমু সিরাজুল ইসলাম জানান, “ডিএফও’র অনুমতি ছাড়া কোনো চিঠি গ্রহণ করা যাবে না।”
দরপত্র অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ৬টি পদের জন্য ৩২ লাখ ৮৫ হাজার ২৭ টাকার চুক্তি সম্পাদিত হয়। পরে প্রধান বন সংরক্ষকের নির্দেশে আরও ২ জন মালী নিয়োগের অনুমোদন এবং ১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ভেরিয়েশন অর্ডার জারি হয়।
মোহাম্মদ আলী হাওলাদার বলেন, “বর্তমান সরকার দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে। সাবেক ডিএফও দুর্নীতিতে জড়িত থেকেও বিচার পাননি। আমার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত দুই কর্মী চাকরি না পেয়ে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।”
একাধিক সূত্র জানায়, লিখিত অভিযোগ সত্ত্বেও প্রধান বন সংরক্ষকের তদন্ত নির্দেশনা উপেক্ষা করে কোস্টাল সার্কেল বরিশাল কেবল নবনিযুক্ত বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জামিল খানের কাছ থেকে মতামত সংগ্রহ করেছে।
আরও সংবাদ পড়ুন: প্রিয় বরিশাল