বরিশালে গণপূর্ত বিভাগের সুনাম ক্ষুণ্নে সংঘবদ্ধ ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
বরিশাল গণপূর্ত বিভাগ এবং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফয়সাল আলম-এর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে সুনামহানির অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র—এমন অভিযোগ উঠে এসেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে ওই চক্রটি মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে বিভিন্ন মাধ্যমে। এমনকি ভুয়া তথ্য সরবরাহ করে কিছু সাংবাদিকের মাধ্যমে অনলাইন ও স্থানীয় পত্রিকায় বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে।
কঠোর অবস্থানে নির্বাহী প্রকৌশলী
গণপূর্ত বিভাগ সূত্র জানায়, নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফয়সাল আলমের নেতৃত্বে বরিশালে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্প স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন হচ্ছে।
ফলে নানা বাধা ও অপপ্রচার উপেক্ষা করেই উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকায় একটি কুচক্রী মহল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে দাবি করা হয়েছে।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংস্কার কাজের বিস্তারিত
গণপূর্ত বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড এবং কিডনি ডায়ালাইসিস ওয়ার্ড সংস্কার প্রকল্পের আওতায় “এ” ব্লকের এসি কেবিন নং ৩৪ ও ৩৫-এর বিশেষ সংস্কারসহ আনুষঙ্গিক কাজ বিধি মোতাবেক দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স গাজী বিল্ডার্স-কে প্রদান করা হয়।
পরবর্তীতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট বিল, এমবি, প্রত্যয়নপত্রসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে জমা দেওয়া হয়।
বিল পরিশোধ ও চেক হস্তান্তরের প্রক্রিয়া
গাজী বিল্ডার্সের প্রোপাইটর মোঃ আল-মামুনের পক্ষ থেকে তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি হিসেবে মোঃ মাসুদুর রহমান মাসুদ-কে চেক গ্রহণের অনুমতি দিয়ে ক্ষমতার্পণপত্র প্রদান করা হয়।
এরপর সব কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ২০২৫ সালের ২৩ জুন সাত লক্ষ ষাট হাজার সাতশত পঁচিশ টাকার চেক মাসুদুর রহমান মাসুদের স্বাক্ষরের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়।
প্রোপাইটরের বিতর্কিত পরিচয় ও পলাতক থাকার অভিযোগ
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মেসার্স গাজী বিল্ডার্সের প্রোপাইটর মোঃ আল-মামুন নিষিদ্ধ সংগঠন বরিশাল ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন।
এছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় তিনি পলাতক রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার অনুপস্থিতিতে মাঠপর্যায়ের কাজ সম্পন্ন করেন ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি মোঃ মাসুদুর রহমান মাসুদ।
অপপ্রচারের বিরুদ্ধে গণপূর্ত বিভাগের অবস্থান
গণপূর্ত বিভাগ জানিয়েছে, বিধি মোতাবেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামেই চেক ইস্যু করা হয়েছে এবং চেক হস্তান্তরের পরবর্তী কোনো কর্মকাণ্ড নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরের এখতিয়ারভুক্ত নয়।
তবুও হয়রানিমূলক উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ এবং গণমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
কালো তালিকাভুক্তির সুপারিশ
এই প্রেক্ষাপটে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগ পিপিআর-২০২৫ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি লাইসেন্স কালো তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করেছে।
সবশেষে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।






