মোবাইল সাংবাদিকতায় দক্ষতা অর্জনে প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই
আমি নিজের জন্যই ছবি তোলা ও ভিডিও করতে পছন্দ করি। একদিন প্রথম আলো আমাদের হাতে মুঠোফোন তুলে দিয়ে বলল—নিজে নিজেই সব করতে হবে। তখনই বুঝলাম, কাজটা আসলে যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটাই কঠিন।
একবার একটি এসাইনমেন্টে ফটোগ্রাফার উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষ মনে করে তিনি বের হয়ে যান। ঠিক তার পরই ঘটে যায় গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। আমি সঙ্গে সঙ্গে ছবি তুলি, এবং আশ্চর্যের বিষয়—পরদিন সেই ছবিই প্রথম আলোতে প্রকাশিত হয়।
অন্যদিকে, একদিন অটোরিকশায় যাওয়ার সময় দেখি মেট্রোরেলের কাজ করতে আসা কয়েকজন তরুণ গান গাইছেন। বাদ্যযন্ত্র বলতে তাদের হাতের কাছেই থাকা কনস্ট্রাকশন কাজের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। দেরি না করে অটো থামিয়ে ভিডিও করি। এইভাবেই মোবাইল সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িয়ে পড়া।
মানবিক গল্প ও মোবাইল ক্যামেরার সুবিধা
মানবিক স্টোরিগুলোর ক্ষেত্রে অনেক সময় সাবজেক্টের সঙ্গে কথা বলার মতো পরিস্থিতি থাকে না। কারণ, টেলিভিশনের বড় বড় ভিডিও ক্যামেরা দেখলে অনেকেই বিরক্ত হন, এমনকি গালিও দেন।
তাই আমি প্রথমে সাবজেক্টের কাছাকাছি যাই, স্বাভাবিকভাবে কথা বলি। এরপর একসময় মোবাইলে রেকর্ড করার কথা বলি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কেউ আপত্তি করেন না।
তবে যদি কেউ অনুমতি না দেন, আমি সেই কাজটি করি না। সংবাদমূল্য যত বেশি হোক না কেন, আমি ব্যক্তিগত সম্মতির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিই।
নমনীয়তা, প্রশিক্ষণ ও ডিভাইসের গুরুত্ব
অনেক সময় নমনীয় হলে অন্যরাই একটু জায়গা করে দেন। ফলে নিজেকেই নিজের পথ বের করে নিতে হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—দক্ষতা অর্জনে প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। মোবাইল সাংবাদিকতায় ভালো ডিভাইস ব্যবহার করতে পারলে কাজের মান আরও বাড়ে।
এ ছাড়া মোজো (MoJo) সাংবাদিকতার কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন আছে। সেগুলো শিখে মাঠে নামতে পারলে কাজের আত্মবিশ্বাস ও গ্রহণযোগ্যতা দুটোই বাড়ে।
মানসুরা হোসাইন
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, প্রথম আলো






