✍️ এক্সসার্প্ট (Excerpt)
২৪ ঘণ্টার সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেলের এই যুগে সংবাদ পরিবেশনে গতি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি জরুরি সত্যতা যাচাই ও সম্পাদকীয় বিচক্ষণতা। মোবাইল সাংবাদিকতা কীভাবে এই প্রতিযোগিতায় বড় ভূমিকা রাখছে—সে কথাই তুলে ধরা হয়েছে এই লেখায়।
📝 মূল লেখা
সংবাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে থাকে গতির প্রতিযোগিতা। মোবাইল ফোন ২৪ ঘণ্টার সংবাদভিত্তিক চ্যানেলের অন্যতম প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ। বাংলাদেশে বর্তমানে ২৪ ঘণ্টার সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে আটটি।
একজন রিপোর্টার প্রতিদিনের অ্যাসাইনমেন্টে গিয়ে প্রথমেই ইভেন্টের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানান। মেসেঞ্জার গ্রুপে অনুষ্ঠানস্থল, অতিথিদের উপস্থিতি, কিংবা সর্বশেষ একটি ছবি বা ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে পাঠিয়ে দেন বার্তাকক্ষে। বার্তাকক্ষের কমন গ্রুপের সদস্যরা এসব দেখে ধারণা নেন—সেদিন সেখান থেকে কী ধরনের খবর পাওয়া যেতে পারে।
এরপর গুরুত্ব বিবেচনা করে রিপোর্টারকে লাইভ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কখনও টিকার বার স্ক্রলের জন্য লাইন দেওয়া হয়। এ ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনে বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে সরাসরি লাইভ করার সুযোগও থাকে।
কখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কোনো ভিডিও বা তথ্য নিয়ে বার্তাকক্ষে সংশয় তৈরি হয়। ভাইরাল হলেই সেটি গণমাধ্যমের খবর হয়ে যায় না—যদিও এসব বিষয় নিয়ে দর্শক ও পাঠকের আগ্রহ থাকে। কিন্তু সব ঘটনাই কি মূলধারার টেলিভিশনে প্রচারযোগ্য?
বার্তা সম্পাদক এসব তথ্য ও ভিডিওর সত্যতা যাচাই-বাছাই করার চেষ্টা করেন। নীতিমালা অনুসরণ করে তথ্যটি খবর হিসেবে বুলেটিনে রাখা হয় কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি খবর পরিবেশনের ক্ষেত্রেও সম্পাদকীয় বিবেচনা অত্যন্ত জরুরি।
প্রতিযোগিতার কথা মাথায় রেখে সব দিক বিবেচনা করে যারা দ্রুত ও সঠিকভাবে খবর প্রচার করতে পারেন, তাদের দক্ষতাই দর্শকের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হয়।
এ কারণেই সংবাদ পরিবেশনে গতির প্রতিযোগিতা তীব্র। আর গতির সঙ্গে সঙ্গে ভুলের আশঙ্কাও বেড়ে যায়। বর্তমানে প্রায় সব টেলিভিশন চ্যানেলই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশন করছে। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও যমুনা টেলিভিশন এই মুহূর্তে মোবাইল সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে।
👤 লেখক পরিচিতি
ইউনুস রাজু ডেপুটি সিএনই, নিউজ টোয়েন্টিফোর টেলিভিশন।