উদ্বোধনের দীর্ঘ নয় বছর পর বরিশালের জনপ্রিয় ‘গ্রিন সিটি পার্ক’-এ প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী। ২০১৬ সালে উদ্বোধনের সময় পার্কটি সকলের জন্য উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা থাকলেও, ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতর থেকে জনপ্রতি ১০ টাকা করে টিকিট চালু করে তৎকালীন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) প্রশাসন। বর্তমানে সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকরা নতুন বিসিসি প্রশাসকের কাছে এই প্রবেশ টিকিট পুনরায় ফ্রি করার দাবি জানিয়েছেন।
নগরের অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, গ্রিন সিটি পার্কটি শিশুদের বিনোদনের একমাত্র উন্মুক্ত আশ্রয়স্থল ছিল। হঠাৎ করে ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ থেকে ‘সেবামূল্যের’ নামে ১০ টাকা ফি চালু করায় দরিদ্র পরিবারের শিশুরা বিনোদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অভিভাবক লিজা ইউসুফ অভিযোগ করেন, “আগের মেয়ররা পার্কটি উন্মুক্ত রেখেছিলেন। কিন্তু নতুন কোনো সুবিধা যুক্ত না করেই টিকিট চালু করে শিশুদের সমঅধিকার সংকুচিত করা হয়েছে।”
বিসিসি সূত্র মতে, বর্তমানে পার্কটি থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারীর দাবি, পার্কের পরিচ্ছন্নতা ও ১৫ জন কর্মীর বেতন মেটাতেই এই ১০ টাকা ফি ধার্য করা হয়েছে। তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার মো. রায়হান কাওছারও এই সিদ্ধান্তকে পার্কের সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে অভিভাবক সাহেল রহমান আকাশ ও ফাতেমা আক্তার শম্পা মনে করেন, পরিবেশ উন্নত হলেও প্রবেশমূল্যের কারণে গরিব শিশুদের জন্য পার্কের দুয়ার বন্ধ হয়ে গেছে।
২০১৬ সালের ২৯ জানুয়ারি তৎকালীন মেয়র আহসান হাবিব কামাল ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই পার্কটি উদ্বোধন করেন। তখন স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল যে, পার্কে প্রবেশ ও ১৪টি রাইড ব্যবহারে কোনো ফি লাগবে না। দীর্ঘ নয় বছর সেই নিয়ম চললেও হঠাৎ প্রশাসকের সিদ্ধান্তে টিকিট চালু হওয়াকে ‘দুঃখজনক’ মনে করছেন স্থানীয়রা।
আরও পড়ুন: বরিশালের স্থানীয় খবর পড়তে এখানে ক্লিক করুন
অবশেষে, নগরবাসীর প্রত্যাশা—নতুন বিসিসি প্রশাসক মানবিক দিক বিবেচনা করে গ্রিন সিটি পার্ককে পুনরায় সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করবেন এবং শিশুদের শৈশবকে বাণিজ্যিকীকরণ থেকে রক্ষা করবেন।