সংসারে দুজন বহুমাত্রিক শারীরিক প্রতিবন্ধী। অন্ধ, কালা, কুঁজো। শরীরে বাসা বেঁধেছে একাধিক রোগ। সুদূর গাইবান্ধা থেকে বরিশালে এসেছেন শহিদুল ইসলাম, আনোয়ারা বেগম ও ফাতেমা আক্তার। শহিদুল ও ফাতেমা শারীরিক প্রতিবন্ধী। তাদের চলাচলের জন্য নেই হুইলচেয়ার। শেষে আরেক প্রতিবন্ধীর কাছ থেকে হুইলচেয়ার এনে কোনোরকমে চলছে দিন। বিনিময়ে দিতে হচ্ছে ৫০ টাকা করে ভাড়া।
সম্পর্কে শহিদুল ইসলাম আনোয়ারা বেগমের চাচাশ্বশুর। আর ফাতেমা আক্তার আনোয়ারা বেগমের মেয়ে। তাদের মূল বাড়ি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড কানিপাড়া গ্রামে। আজ থেকে ২২ দিন আগে তারা বরিশালে এসেছেন চরমোনাইয়ের মাহফিল উপলক্ষে। ভেবেছিলেন এখানে মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে একটি হুইলচেয়ার কিনবেন।
এদিকে আনোয়ারা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়লে অস্ত্রোপচার করতে হয়। এতে তার যতটুকু জমি ছিল, তা বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন প্রতিবন্ধী চাচাশ্বশুর ও নিজ মেয়েকে নিয়ে মানুষের সাহায্যে চলছেন।
আনোয়ারা বেগম ঢাকা পোস্টকে বলেন, চলাচলে সম্পূর্ণ অক্ষম দুজন প্রতিবন্ধীকে আমাকে দেখাশোনা করতে হয়। এর মধ্যে তার ১৯ বছরের মেয়ে ফাতেমা আক্তার উঠে দাঁড়াতে পারে না। দেখে না চোখে। এমনকি কানেও শোনেন না। ওদিকে চাচাশ্বশুর শহিদুল ইসলামের সারা শরীরে ছোট ছোট টিউমার। জন্ম থেকে কুঁজো হওয়ায় বসে বসেই সবকিছু করেন তিনি। তাই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করতে অর্বণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
প্রতিবন্ধী শহিদুল ইসলাম বলেন, আনু (আনোয়ারা) একজনকে কোলে নিয়ে চলাচল করতে পারেন হয়তো। কিন্তু আমাদের দুজনকে কোলে নিয়ে চলতে অনেক কষ্ট করতে হয় আনুর।
দুজনই প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন উল্লেখ করে শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকার আমাদের দুজনকেই ভাতা কার্ড করে দিয়েছে। এখন অভাব একটা হুইলচেয়ারের। শহিদুল আরও বলেন, আমরা দোয়া করি আল্লাহ শেখ হাসিনার ওপর আরও সদয় হোক। আমাদের বাকি জীবনটা যেন চলতে পারি।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসনের প্রবেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঘটনাটি হৃদয়বিদারক। হুইলচেয়ার ভাড়ায় এনে দিনযাপন করতে হচ্ছে তাদের। এ পরিবারটি অর্থনৈতিক অসচ্ছলতায় ঘর ছেড়েছেন বহু আগে।
তিনি আরও বলেন, মানসিক প্রতিবন্ধীদের জন্য খাবার দিতে এসে তাদের অর্বণনীয় দুর্দশার চিত্রটি চোখে পড়ে। আমি জেলা প্রশাসক ও সমাজসেবা অফিসের উপপরিচালক স্যারের সঙ্গে কথা বলে আগামী বুধবারের মধ্যে হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করব।
জানা গেছে, হুইলচেয়ারের মালিক দুর্ঘটনায় আহত হলে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়েছেন। তার কাছ থেকে দিনে ৫০ টাকা ভাড়ায় হুইলচেয়ার এনেছেন আনোয়ারা। বরিশালের নদী বন্দর-সংলগ্ন স্টিমারঘাট এলাকায় পরিত্যক্ত একটি বেঞ্চের পাশে প্লাস্টিকের বস্তা বিছিয়ে বসবাস করছে পরিবারটি।