চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন শেষ হয়েছে। নতুন নগর পিতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন রেজাউল করিম চৌধুরী। এই নির্বাচনে যেভাবে প্রচারণা হয়েছে, উত্তাপ ছড়িয়েছে, ব্যালটে তার প্রতিফলন ঘটেনি। মাত্র ২২ শতাংশ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে একটা নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে। আগামী দিনে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে এই মেরুকরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বরেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। রাজনৈতিক মেরুকরণের বিশেষ দিক গুলোর মধ্যে রয়েছে;
১. আ.জ.ম নাছিরের অধ্যায়ের সমাপ্তি: চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে সাবেক মেয়র এবং মহানগরী আওয়ামী লীগ নেতা আ.জ.ম নাছিরের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো। এই নির্বাচনের মাধ্যমে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে অগুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবেন নাছির। গত ৫ বছর চট্টগ্রামের রাজনীতিতে তার একচ্ছত্র কর্তৃত্ব ছিলো।
<২. ডা: শাহাদতের উত্থান: বিএনপি প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন এই নির্বাচনের মাধ্যমে আলোচনায় উঠে এসেছেন। ভোট যাই পান কেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি তার গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করতে পারছেন। আগামী দিনে চট্টগ্রাম বিএনপির রাজনীতি তাকে ঘিরেই আবর্তিত হবে। ৩. নওফেলের উত্থান: এই নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন রেজাউল করিম চৌধুরী কিন্তু রাজনৈতিক উত্থান ঘটেছে মহিবুল হাসান চৌধুরীর। এই নির্বাচনের মাধ্যমে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে মহিউদ্দিন চৌধুরী পন্থীদের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর এই গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরীর পুত্র। এই নির্বাচনের মাধ্যমে চট্টগ্রামে নওফেলের উত্থান হলো। ৪. কোন্দল কমবে আওয়ামী লীগ:গত কয়েক বছর ধরে কোন্দলে জর্জরিত ছিলো আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম মহানগরী শাখা। আ.জ.ম নাছির পন্থী এবং মহিউদ্দিন চৌধুরী পন্থীদের মধ্যে টুক-টাক বিরোধ সব সময় লেগেই থাকতো। এখন এই নির্বাচনের পর এই গ্রুপিং এবং কোন্দল কমবে। কারণ নতুন নগর পিতা রেজাউল করিম চৌধুরী একজন সজ্জন ব্যক্তি। তাই কোন্দল প্রশমনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। ৫. সাংগঠনিক শক্তি বাড়বে বিএনপির: নির্বাচনে হারলেও এই নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বাড়বে। নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি সংগঠনকে কিছুটা হলেও গুছিয়েছে। অনেক নিষ্ক্রিয় নেতা কর্মী সক্রিয় হয়েছেন। এটা সংগঠন গোছাতে বিএনপিকে সাহায্য করবে। এই মেরুকরণ তাই চট্টগ্রামের রাজনীতির গতিপ্রকৃতিও আগামীতে পাল্টে দেবে।