চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থীর সাথে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ভোটের ব্যবধানও অনেক বেশী। কিন্তু তারপরও এই নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য উৎসাহ ব্যঞ্জক নয়, আশা প্রদত্ত নয়। এই ভোট আওয়ামী লীগকে সাময়িক আত্মপ্রসাদ দিতে পারে, কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতারাও নির্বাচনের গতি প্রকৃতিতে উদ্বিগ্ন। চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে ভোট পরেছে ২২ শতাংশ। ২০০১ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সবথেকে খারাপ করেছিল। ঐ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৪২ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। আমরা ধরে নিতে পারি যে আওয়ামী লীগের রিজার্ভ ভোট ৪০ থেকে ৪২ শতাংশ। কিন্তু ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর সব নির্বাচনেই ৪০ শতাংশ ভোট পরেছে। আওয়ামী লীগ কর্মী এবং সমর্থকরাও ভোট বিমূখ হয়েছে। এটা আওয়ামী লীগের জন্য বড় দু:সংবাদ।
এখন সর্বত্র আওয়ামী লীগের জয় জয়কার। বর্ষার বিলের কই মাছের মতো আওয়ামী লীগ সারাদেশে কিলবিল করে। প্রশাসন থেকে শো-বিজের তারকা সবাই এখন আওয়ামী লীগ। কিন্তু ভোটে তার প্রতিফলন ঘটে না। দেশে এতো আওয়ামী লীগ থাকলেও কেন, কোথাও কোথাও ৫ শতাংশ, ৭ শতাংশ ভোট দলের কর্মী সমর্থদের ভোট কেন্দ্রে না গিয়ে যেতে পারে, তাহলে তিনি কি সত্যি যোগ্য? এই প্রশ্ন আওয়ামী লীগের মধ্যেই উঠছে। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলছেন ‘আওয়ামী লীগের সমর্থক দরকার নেই, কর্মীরাও ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিচ্ছে না।’ এই অনীহা আওয়ামী লীগকেই ভবিষ্যতে সংকটে ফেলতে পারে।’
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজনীতিকরণ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। এখন যখন উৎসব মুখর প্রচারণার পরও মাত্র ২২ শতাংশ ভোটার ভোট দিচ্ছে, তখন প্রশ্ন উঠেছে, এই নির্বাচন কি জনপ্রতিনিধিত্ব শীল? চট্টগ্রামের ৭৮ ভাগ ভোটার আসলে ভোটের প্রতি তাদের অনাস্থা জানিয়েছে ২২ শতাংশের ভোটে জয়ী একজন কিংবা ৩ বা ৫ শতাংশে ভোটে জয়ী একজন নিজেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি দাবী করতে পারেন কিনা এ প্রশ্ন, বিরাজনীতিকরণের পক্ষের লোকজন করতেই পারে।
রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব হলো, তার প্রতি আস্থাশীল ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু নিজের লোকদেরও যখন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ভোট কেন্দ্রে নিতে ব্যর্থ হয়, এখন গণতন্ত্র বিরোধী শক্তিই লাভবান হয়।