আমতলী প্রতিনিধি ॥ ‘মোর ঘড়ে ব্যাড়া নাই। চালে ভাঙ্গাচুরা টিন। দেওয়ই আইলে খালি পানি পরে, হেইয়ার লইগ্যা মুই বুড়া মানু এতকাল ঘুমাইতে পারি নাই, বাইশ্যা শুরু অইলে হারা দিন রাইত ঘড়ের মধ্যে বইয়া থাকতাম।
মোগো উপজেলা চেয়ারম্যান একটি পাঁকা ঘড় কইর্যা দিছে মুই এহন একটু শান্তিতে ঘুমাইতে পারমু।’ কথা গুলো বলছিলেন আর কাপরের আঁচল দিয়ে বার বার চোখ মুচছিলেন আমতলী উপজেলার আঠার গাছিয়া ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামের বিধবা ৭৫ বছর বয়সী কমলা বেগম।
কমলার স্বামী দরিদ্র আফেজ প্যাদা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে ২০১৫ সালে মারা যান। কমলার এক ছেলে ও এক মেয়ে। শারিরিক প্রতিবন্ধী ছেলে ফোরকান বিয়ে করে স্ত্রী নিয়ে ঢাকায় দিনমজুরের কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে নিজের সংসার চলে না। তাই মায়ের জন্য কোন খরচের টাকা দিতে পারেন না তিনি।
মেয়ে রোজিনা বেগম। গ্রামের মানুষে সহযোগিতায় বিয়ের পর স্বামীর বাড়ি থাকেন। কমলার সম্পদ বলতে আছে স্বামীর রেখে যাওয়া ২ শতক জায়গার উপর ভাঙ্গা চুরা দো চালার একটি খুপরি ঘড়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে হতদরিদ্রদের জন্য দেওয়া ত্রানের ঘড় বঞ্চিত কমলা বেগমের দুখ: দুর্দশার একটি ভিডিও ঈদুল ফিতরের দিন বিধবা কমলা বেগমের জরাজীর্ণ ঘরে বসবাসের একটি ভিডিও আঠারোাগছিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ প্রচার সম্পাদক মো. সোহেল রানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেএকটি ভিডিও ভাইরাল করেন।
ভিডিওটি ভাইরাল হলে সেটি নজরে আসে আমতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ার ফোরকান ও তার ছোট ভাই পটুয়াখালী চেম্বার অব কর্মাসের সাবেক সভাপতি আওয়ামীলীগ নেতা শফিকুৃল ইসলাম চাঁন মিয়ার।
পরে তারা মুজিব বর্ষ উপলক্ষে তাদের অর্থায়নে বৃদ্ধা কমলা বেগমকে একটি পাঁকা ঘড় দেওয়ার সিদান্ত নেন। সিদান্ত অনুযায়ী শুক্রবার জুম্মা নামাজ বাদে এলাকার গন্যমান্য মানুষ নিয়ে কমলার পাঁকা ঘড় নির্মান কাজের উদ্বোধন করেন আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ার ফোরকান এবং তার ছোট ভাই শফিকুল ইসলাম চাঁনমিয়া।
মুজিব বর্ষ উপলক্ষে আমতলী উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ গোলাম ছরোয়ার ফোরকান ও তার ছোট ভাই শফিকুল ইসলাম চাঁন মিয়া তাদের ব্যাক্তিগত অর্থায়নে আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নে কমলার মত হত দরিদ্র ১৮ পরিবারের মাঝে পাকা ঘর করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তারই ধারাবাহিকতায় সরকারী ত্রানের ঘর বঞ্চিত বিধবা কমলা বেগম ও আরেকজন হতদরিদ্র মিজানুর রহমান নামের একজনকে ঘড় উপহার দিয়ে সেটিরও কাজ শুরু করেন।
বৃদ্ধা কমলা বেগম কান্নাজরিত কন্ঠে বলেন, ‘মোরে যে ঘড় দেছে আল্লাহ হেরে যেন ভাল রাহে।’ মিজানুর রহমান বলেন, ‘হারা জীবন নাড়ার ঘড়ে রইছি। এহন যদি পোলা মাইয়া লইয়া একটু পাঁকা ঘড়ে থাকতে পারি।
পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম চান বলেন, নিজ পরিবারের অর্থায়নে উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় ত্রানের ঘড় বঞ্চিত হতদরিদ্র মানুষদের মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ঘর দেওয়া হবে। আপাতত আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নে সরকারী ঘর বঞ্চিত হতদরিদ্র দুই পরিবারের মাঝে ঘর দেওয়া হয়েছে। আরো ১৬টি পরিবারকে ঘর দেওয়া হবে।
আমতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ গোলাম ছরোয়ার ফোরকান বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া সরকারী ঘর বঞ্চিত হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। দুইটি ঘরের কাছ চলছে। অবশিষ্ট কাজ অল্প দিনের মধ্যেই শুরু করা হবে।