প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে নওগাঁয় শত্রুতায় পুড়লো ৬ বিঘা জমির বীজতলা | প্রিয় বরিশাল নওগাঁয় শত্রুতায় পুড়লো ৬ বিঘা জমির বীজতলা | প্রিয় বরিশাল
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন

নওগাঁয় শত্রুতায় পুড়লো ৬ বিঘা জমির বীজতলা

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২১

নওগাঁর পোরশা উপজেলায় অতিরিক্ত পরিমাণ আগাছানাশক কীটনাশক প্রয়োগ করে প্রায় ৬ বিঘা জমির বোরো ধানের বীজতলার ধানচারা ঝলসে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার (১৮ জানুয়ারি ) দিবাগত রাতে উপজেলার পাশাপাশি তিনটি মাঠে আগাছানাশক কীটনাশক প্রয়োগ করে ১৬ জন কৃষকের বীজতলার চারা ঝলসে দেয় প্রতিপক্ষের লোকজন।

বোরো ধান রোপনের আগ মুহূর্তে  বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা।

পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা বলছেন, ৬ বিঘা জমিতে তারা ৩০ মণের বেশি ধানের বীজ বপণ করেছিলেন। ৬ বিঘা জমির বীজতলা দিয়ে প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে ধান রোপনের লক্ষ্য ছিল তাদের।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ তিন কৃষক আব্দুল মালেক শাহ্, মোস্তাফিজুর রহমান ও মনিব আল রাজী গত মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি ) বাদী হয়ে উপজেলার সুতলী গ্রামের ওয়াসিম মল (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে প্রধান আসামি উল্লেখ করে সাথে  আরও কয়েকজন  অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পোরশা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে হতে জানা যায়, উপজেলার ঘাটনগর ইউনিয়নের দেউপুরা, সুতলী, ধামানপুর ও সোমনগর গ্রামের ১৬ জন কৃষক প্রায় দেড় মাস আগে বোরো  ধানের বীজ বপন করেন।

আর ১০-১৫ দিন পর তাদের বীজতলার চারাগুলো জমিতে রোপনের উপযুক্ত হয়ে উঠত।

এ অবস্থায় গতসোমবার (১৮ জানুয়ারি ) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় সুতলী গ্রামের ওয়াসিম ম-ল ও তার লোকজন তাদের বীজতলায় অতিরিক্ত পরিমাণ আগাছানাশক কীটনাশক প্রয়োগ করে চারাগাছগুলো ঝলসে দেয়।

ওয়াসিম ম-লের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্থ বীজতলার মালিক মনিব আল রাজী, এনামুল হক শাহ্, মোস্তাফিজুর রহমান, হারুনুর রশিদ ও আনারুল হকের সোমনগর ও ধামানপুর মাঠে ১৫ বিঘা আবাদি জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। উক্ত জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

এছাড়া ও ২০১৯ সালে ওয়াসিম ম-লের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখল ও এর সূত্র ধরে মালিকপক্ষ ও পুলিশের উপর হামলার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা চলমান রয়েছে।

এছাড়া এর আগেও জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তিনি প্রতিপক্ষের পুকুরের মাছ ও আম বাগানের ক্ষতি সাধন করেছেন । স্থানীয়দের অভিযোগ ওয়াসিম ম-ল সন্ত্রাসী প্রকৃতির মানুষ।

গত মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি ) সকালে কৃষকেরা বীজতলায় গিয়ে লক্ষ্য করেন তাদের চারাগুলো হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে ও শুকিয়ে গেছে।

কৃষকেরা প্রথমে মনে করেন কুয়াশা ও অতিরিক্ত শীতের কারণে হয়তো চারাগুলো হলুদ হয়ে যাচ্ছে।

চারা বাঁচানোর জন্য বীজতলার আগের পানি বের করে দেন এবং বৈদ্যুতিক মর্টার ও শ্যালো মেশিনের সাহায্যে বীজতলায় নতুন পানি দেন ।

কিন্তু তারপরেও তারা লক্ষ্য করেন বীজতলার চারাগুলো ধীরে ধীরে আরও বেশি হলুদ হয়ে শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। তাদের ধারণা জমির আগাছা মারার কীটনাশক প্রয়োগ করে তাদের চারাগুলো নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ধামানপুর গ্রামের ধীরু উড়াও বলেন, গত চার বছর ধরে চার বিঘা জমি বর্গা নিয়ে তিনি বোরো ও আমন ধান আবাদ করছেন। এ বছরেও বর্গা নেওয়া জমিতে ধান চাষের জন্য সোমনগর মাঠে ১০ কাঠা জমিতে আধা মণ ধান বপন করে বীজতলা তৈরি করেন।

এমন এক সময় বীজতলা নষ্ট করা হলো যখন নতুন করে বীজতলা তৈরির সুযোগ নেই। বাইরে থেকে ধানের চারা কিনে জমিতে রোপন করবেন সেই সামর্থ ও তার নেই।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওয়াসিম ম -ল  বলেন ” আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। জমি নিয়ে তিন চার জনের সাথে আমার বিরোধ আছে। তবে ক্ষতি করার ইচ্ছে থাকলে ওই সব ব্যক্তির বীজতলা নষ্ট করতাম, অন্য কৃষকদের ক্ষতি করে আমার লাভ কি।”

তিনি আরও বলেন, “যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে তারা নিজেরাই ক্ষতিকর কীটনাশক ছিটিয়ে বীজতলা নষ্ট করে আমাকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করছে।”

বীজতলা নষ্ট হওয়ার বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা উপজেলা কৃষি বিভাগকে অবহিত করেছেন।

বুধবার (২০ জানুয়ারি ) সকালে ক্ষতি হওয়া বীজতলা পরিদর্শন করেন পোরশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজ আলম।

তিনি জানান, “বীজতলার চারার জন্য এ বছরের আবহাওয়া বেশ ভালো। অন্য মাঠগুলোর চারা এবার ভালোই রয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন গিয়ে বীজতলার চারা দেখে মনে হয়েছে, বীজতলায় অতিরিক্ত আগাছানাশক কীটনাশক প্রয়োগ করে চারাগুলো নষ্ট করা হয়েছে। এ বিষয়ে থানা পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে আমার বিশ্বাস।”

এ বিষয়ে পোরশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল আজম খান কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান , “এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা একটা অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে আগাছানাশক কীটনাশক  ছিটিয়ে বীজতলা নষ্টের ঘটনায় যথাযথ তথ্য-প্রমাণ সাপেক্ষে বিষয়টি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved 2018-2026,
Design By MrHostBD
themesba-lates1749691102