প্রিয় ডেস্ক ॥ পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় ডাম ফাউন্ডেশন ফর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (ডিএফইডি) বোদা শাখা থেকে ১২ লাখ ৬০ হাজার ১৪০ টাকা নিয়ে ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ৩ জনকে সাক্ষী করে বিজ্ঞ আমলি আদালতে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন এরিয়া ম্যানেজার রবিউল হক।
তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আসামি পলাতক রয়েছেন। ডিএফইডি বোদা শাখার পলাতক আসামি ওই ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের নাম রুহুল আমিন (৩৫)।
তিনি বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ভাষানচর খণ্ড ভাষানচর গ্রামের মৃত আলী হোসেন হাওলাদারের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামি রুহুল আমিন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা শাখা অফিসে গত ২০১২ সালের ৪ ডিসেম্বর ব্রাঞ্চ ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
ওই শাখার যাবতীয় ঋণ বিতরণ এবং সংস্থার টাকা আদান-প্রদান তিনি পরিচালনা করতেন। সেই সুযোগে সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনা করার পাশাপাশি অর্থ আত্মসাৎ ও চুরি করার সুযোগ সন্ধান শুরু করেন।
এরমধ্যে ৪ লাখ ৭৮ হাজার ১০৬ টাকা মাঠ কর্মীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে আত্মসাৎ করেন তিনি। বিষয়টি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানতে পেরে আসামিকে টাকা ব্যাংকে জমা করার জন্য বলেন।
গত ২০২০ সালের ১১ জুলাই আসামি ওই টাকা পরিশোধের একটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। এরপরেও আসামি সংস্থার কাজ পরিচালনা করতেন।
গত ২২ জুলাই টিটির মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি ব্যাংকে জমা না করে নিজের কাছে রেখে দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জমা দেখান।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ব্যাংক স্টটেমেন্ট বের করে দেখেন আসামি ওই তারিখে কোনো টাকা ব্যাংকে জমা দেননি।
এ ছাড়াও সংস্থার মাঠ কর্মী ও সংস্থার সদস্যদের জমা দেওয়ার বিভিন্ন অংকের টাকা ২ লাখ ৮২ হাজার ৩৪ টাকা সর্বমোট (৫,০০,০০০+৪,৭৮,১০৬+২,৮২,০৩৪)= ১২ লাখ ৬০ হাজার ১৪০ টাকা গত ৪ অক্টোবর ২০২০ (রোববার) বিকেল সাড়ে ৭টায় সংস্থার অন্য কর্মীদের না বলে ও সংস্থার নিয়ম ভঙ্গ করে উপজেলা শাখা অফিস থেকে পালিয়ে যান।
এদিকে, বিভিন্ন এলাকাসহ আসামির বাড়িতে খোঁজার পরেও তাকে না পেয়ে গত ৯ অক্টোবর ২০২০ বাদী বোদা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করা হয়।
এর মধ্যে বিজ্ঞ আমলী আদালতে ১৫ অক্টোবর অভিযোগটি গেলে বিষয়টি তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে যান।
যার মামলা নম্বর- ৪৪/২০২১। জানা যায়, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাদের তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেছে।
মামলার বাদী ডিএফইডি এরিয়া ম্যানেজার রবিউল হক বলেন, ডাম ফাউন্ডেশন ফর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (ডিএফইডি) দেশের বিভিন্ন জেলায় ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ করে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী করে আসছে।
এর মধ্যে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার রুহুল আমিন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মনে দৃঢ় বিশ্বাস অর্জন করে ১২ লাখ ৬০ হাজার ১৪০ টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যান।
যে কারণে সংস্থাটি বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তাই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরামর্শ এবং টাকা আত্মসাৎ করায় তার বিরুদ্ধে এরিয়া ম্যানেজার হিসেবে মামলা দায়ের করেছি। তবে টাকা নিয়ে তিনি পলাতক রয়েছেন।