কুয়াকাটায় হোটেলে হামলার ঘটনা, পুলিশ মোতায়েন
পটুয়াখালীর পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় একটি আবাসিক হোটেলে হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি নেতার মালিকানাধীন হোটেল ‘সাগর’-এ হামলা চালিয়েছেন পৌর শ্রমিক দলের নেতা মো. জলিল চুকানী ও তাঁর অনুসারীরা। এই ঘটনায় হোটেলটিতে থাকা পর্যটকেরা আতঙ্কিত হয়ে আশপাশের হোটেলে চলে যান।
হোটেল মালিকের অভিযোগ
হোটেলটির মালিক এবং পৌর বিএনপির সহসভাপতি এম এ মান্নান চৌধুরী অভিযোগ করেন, এই হামলা রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের। তিনি বলেন, “শ্রমিক দলের কিছু নেতা-কর্মীর আচরণ বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। মূল দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের আচরণ অসৌজন্যমূলক। প্রয়োজন হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগের দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পৌর বিএনপির সদস্য শিরু মোল্লার ওপর হামলা চালান শ্রমিক দলের নেতা জলিল ও তাঁর অনুসারীরা। এই ঘটনায় শিরুর সঙ্গে থাকা বিএনপির কর্মী বায়জিদ খানকেও মারধর করা হয়। পরে বিএনপি নেতা-কর্মীরা সালিস বৈঠক ডাকে, তবে শ্রমিক দলের কেউ উপস্থিত হননি। এর জের ধরে পরের দিন ২৫-৩০ জন মোটরসাইকেলসহ হামলা চালানো হয় হোটেল সাগরে।
শ্রমিক দলের বক্তব্য
জলিল চুকানী হামলার অভিযোগকে অস্বীকার করে বলেন, “হোটেল সাগরের সামনে আমাকে আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। আমি শ্রমিক দলের নেতা-কর্মীদের আহ্বান করি এবং তারা আসলে আমি সেখান থেকে চলে যাই। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এসেছে, তা মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।”
পুলিশের ভূমিকা
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, “ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। হোটেল সাগরে হামলার অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এই ঘটনার ফলে কুয়াকাটার পর্যটকরা আতঙ্কিত হয়ে হোটেল পরিবর্তন করেছেন। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্ক রয়েছে।






