বরিশালে পাউবোর সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এক সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা মোঃ এ. আর. আল আমিনের মালিকানাধীন একটি ৯ তলা ভবনকে ঘিরে নগরজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।
বিশেষ করে বরিশাল নগরীর রুপাতলি হাউজিং এলাকায় অবস্থিত ভবনটির আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। অথচ তার সরকারি চাকরির মূল বেতন মাত্র ২২ হাজার টাকা হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
১৪ বছরের চাকরিজীবনে কোটি কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৪ বছরের চাকরিজীবনে মোঃ এ. আর. আল আমিনের নামে এবং নামে-বেনামে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রুপাতলি হাউজিং এলাকার বহুতল ভবনটি সবচেয়ে আলোচিত।
এছাড়া, অভিযোগ রয়েছে যে তার আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের নামে নগরীর বিভিন্ন স্থানে একাধিক প্লট, ফ্ল্যাট এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগ রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তার আয়ের উৎস নিয়ে কৌতূহল ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ
অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে এসব সম্পদ অর্জন করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে, সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কারণ, এমন অভিযোগ সরকারি দপ্তরের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
দুদকের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি সচেতন মহলের
এদিকে, স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, অভিযোগের বিষয়টি দ্রুত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে ভিজিট করতে পারেন
দুদকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি
এ বিষয়ে সহকারী প্রকৌশলী মোঃ এ. আর. আল আমিনের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে ।
সবশেষে বলা যায়, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ।






