শতবর্ষী জলাধার, অতীতেও ছিল ভরাটের চেষ্টা
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, দীঘিটির বয়স প্রায় একশ বছরেরও বেশি। দীর্ঘদিন ধরে এটি এলাকার প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এর আগে একাধিকবার দীঘিটি ভরাটের চেষ্টা করা হলেও তখন তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে পুনরায় ভরাট কার্যক্রম শুরু হওয়ায় এলাকাবাসী শঙ্কিত।
জমির মালিকানা নিয়ে নানা তথ্য
দীঘিটির পাশের এক দোকানদার জানান, ভরাটকৃত জমির মালিক বাবুগঞ্জ এলাকায় বসবাস করেন বলে তিনি শুনেছেন। পরবর্তীতে ভরাটকৃত জমিতে টানানো একটি সাইনবোর্ড থেকে জানা যায়, ক্রয় সূত্রে জমিটির মালিক শহিদুল ইসলাম।
ড্রেজারে বালু সরবরাহ অভিযোগ
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ড্রেজারের পাইপ ব্যবহার করে বালু সরবরাহ করছেন মো. কোটন নামের এক ব্যক্তি। উল্লেখযোগ্যভাবে এর আগেও একই এলাকার বেঙ্গল বিস্কুট কারখানা সংলগ্ন একটি পুকুর ভরাটের ঘটনায় তার নাম উঠে এসেছিল।
বালু সরবরাহকারীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি
এ বিষয়ে মো. কোটনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সালিশে আছেন বলে জানান। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং পরবর্তীতে ফোন বন্ধ রাখেন।
সিটি কর্পোরেশনের অবস্থান
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি শুনেছেন তিনি। তবে দ্রুত সরেজমিনে লোক পাঠিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিক্রিয়া
পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল জেলার সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন অনুযায়ী পরিবেশ ও জলাশয় রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগের আশঙ্কা
স্থানীয় বাসিন্দারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এটি একটি ঘনবসতিপূর্ণ ও শিল্প এলাকা। ফলে জলাশয় ভরাট হলে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হবে এবং মারাত্মক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আইন কী বলছে
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এবং জলাশয় সংরক্ষণ আইন ২০০০ অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া কোনো জলাশয় ভরাট বা শ্রেণি পরিবর্তন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইনে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
সচেতন নাগরিকদের দাবি
সচেতন নগরবাসীর দাবি, অবিলম্বে দীঘি ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। নচেৎ নগরীর পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।






