দুই বছরে বিয়ে ও বিচ্ছেদের চিত্র
জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের হিসাব বলছে, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বরিশালে মোট ১৮ হাজার ৬৪৪টি বিবাহ নিবন্ধিত হয়েছে। বিপরীতে, একই সময়ে ৬ হাজার ৩৫২টি বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জমা পড়েছে।
বিশেষ করে, ২০২৩ সালে ৯ হাজার ৬৬৬টি বিয়ের বিপরীতে বিচ্ছেদ হয়েছে ৩ হাজার ৫টি। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে ৮ হাজার ৯৭৮টি বিয়ের মধ্যে বিচ্ছেদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৪৭টি। ফলে আগের বছরের তুলনায় বিচ্ছেদের হার আরও বেড়েছে।
বিচ্ছেদে নারীদের অংশগ্রহণ বেশি
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনের ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে বেশি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি নারীদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পারিবারিক সহিংসতা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রতিফলনও হতে পারে।
যেসব কারণে ভাঙছে দাম্পত্য জীবন
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক কলহ, মনোমালিন্য ও পারস্পরিক অবিশ্বাস বিবাহবিচ্ছেদের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পাশাপাশি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের মাধ্যমে বিয়ে করে সংসার টিকিয়ে রাখতে না পারার ঘটনাও বাড়ছে।
এছাড়া, যৌতুক দাবি, শারীরিক নির্যাতন, পরকীয়া, স্বামীর বেকারত্ব, মাদকাসক্তি এবং অনলাইন জুয়ায় আসক্তি—এই বিষয়গুলো অনেক নারীকে বিচ্ছেদের পথে বাধ্য করছে বলে জানা গেছে।
আইন সংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণ
বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান মৃধা জানান, অধিকাংশ বিচ্ছেদ মামলায় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ উঠে আসে, যা দাম্পত্য সম্পর্ক ভাঙনের বড় কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
অন্যদিকে, বেসরকারি সংস্থা ব্লাস্ট-এর কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট শাহিদা বেগম বলেন, পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা
বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার মোহসীন মিয়া জানান, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে নারীদের তালাক আবেদনের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
সর্বোপরি, দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।






