মাদকের ভয়াল থাবায় গৌরনদী: প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে বিপথে যুব সমাজ
দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর মাদকবিরোধী অভিযান না থাকায় দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বরিশালের গৌরনদী উপজেলা এখন কার্যত মাদক ব্যবসার নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। শহর পেরিয়ে গ্রামাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলের মতো ভয়ংকর নেশাদ্রব্য। ফলে সহজলভ্য মাদকে সর্বনাশের পথে হাঁটছে যুব সমাজ।
শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই মাদকের অবাধ বিস্তার
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গৌরনদী উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক মাদক স্পট। এসব এলাকায় প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রি করছে চিহ্নিত মাদক কারবারিরা। এমনকি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকেও অনেক ডিলার নির্বিঘ্নে তাদের অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, একদিকে প্রশাসনের নজরদারি দুর্বল, অন্যদিকে মাদকের চাহিদা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
বেকার তরুণদের টার্গেট করে মাদক ব্যবসা
সূত্র আরও জানায়, উপজেলার বাইরের বড় মাদক ডিলাররা স্থানীয় খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে মাদক সরবরাহ করছে। দ্রুত অর্থ উপার্জনের আশায় অনেক বেকার তরুণ-যুবক এই অবৈধ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। ফলে তারা নিজের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের পাশাপাশি পরিবারকেও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ: অভিযান হচ্ছে নামমাত্র
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, প্রশাসনের হাতে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা থাকলেও সেই অনুযায়ী কার্যকর চিরুনি অভিযান দেখা যাচ্ছে না। যদিও মাঝে মাঝে দু’একটি অভিযান পরিচালিত হয়, তবে তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যথেষ্ট নয়। এরই ধারাবাহিকতায় গৌরনদীতে দিন দিন বাড়ছে মাদক ক্রেতা ও বিক্রেতার সংখ্যা।
প্রশাসনের বক্তব্য
গৌরনদীতে মাদকের বিস্তার স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম জানান, প্রতিটি আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ছালেহ্ মো. আনছার উদ্দিন বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া। খুব শিগগিরই অভিযান আরও জোরদার করতে থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সবশেষে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে গৌরনদীকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করা হবে।






