প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে গুঠিয়ার সন্দেশ বরিশালের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি স্বাদ | প্রিয় বরিশাল গুঠিয়ার সন্দেশ বরিশালের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি স্বাদ | প্রিয় বরিশাল
রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৭ অপরাহ্ন
প্রিয় বরিশাল :
বাকেরগঞ্জে বোমা বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের তিনজন মিরপুরে প্রতারক ধরে উল্টো মিথ্যা মামলার শিকার বরিশালের যুবক টকশোতে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীনকে চরম বেয়াদব বললেন বিএনপি নেতা ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতাকে বরিশাল জেলা কমিটির ফুলেল শুভেচ্ছা বরিশালে হঠাৎ করেই ডায়রিয়ার প্রকোপ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি বরিশালের সাইলো চালু না হওয়ায় বাড়ছে ব্যাপক জনদুর্ভোগ ও ক্ষোভ বরিশের ভাইরাল শান্ত সাইকেল চুরি করার সময় হাতেনাতে আটক কুয়াকাটায় সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক ওপর বর্বরোচিত হামলা বরিশালের মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি করার যুবককে মারধর মাদ্রাসা ও এতিমখানার জমি দখলের অভিযোগে পিতা ও দুই পুত্র কারাগারে

গুঠিয়ার সন্দেশ বরিশালের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি স্বাদ

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬
সঞ্জয় চন্দ্র ভদ্র দায়িত্বে গুঠিয়ার সন্দেশ দোকানের

বরিশাল নগরী থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরের বানারীপাড়া উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়ন মূলত কৃষিপ্রধান এলাকা হিসেবেই পরিচিত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই জনপদটি ভোজনরসিকদের কাছে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে একটি বিশেষ মিষ্টির কারণে—যার নাম গুঠিয়ার সন্দেশ

একসময় যেখানে মাত্র একটি দোকানে এই সন্দেশ তৈরি হতো, বর্তমানে চাহিদা বাড়ায় গুঠিয়া বাজারে গড়ে উঠেছে আরও অন্তত ৬–৭টি মিষ্টির দোকান। শুধু স্থানীয় নয়, বরিশাল শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকানেও এখন পাওয়া যাচ্ছে এই জনপ্রিয় সন্দেশ। ফলে বরিশাল সফরে গেলে অনেকেই এই মিষ্টির স্বাদ নিতে ভুল করেন না।

পশ্চিমবঙ্গ থেকে গুঠিয়ায় আসা ঐতিহ্য

স্থানীয় কারিগরদের ভাষ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলা থেকে সন্দেশ তৈরির কৌশল শিখে আসেন সতীশ চন্দ্র দাস নামে এক মিষ্টান্ন শিল্পী। পরবর্তীতে নিজের অভিজ্ঞতা আর নতুন কৌশল যোগ করে তিনি ১৯৬২ সালে প্রথম তৈরি করেন এই বিশেষ সন্দেশ। ধীরে ধীরে সেটিই পরিচিতি পায় “গুঠিয়ার সন্দেশ” নামে।

এরপর তার আত্মীয় পরিমল চন্দ্র ভদ্র এবং বর্তমানে সঞ্জয় চন্দ্র ভদ্র এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। একইভাবে আরেক বিখ্যাত কারিগর বাদশা হাওলাদারের জায়গায় এখন দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তার ছেলে শাওন হাওলাদার।

সহজ উপকরণ, আলাদা স্বাদ

তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো—এই সন্দেশ তৈরিতে ব্যবহার হয় খুব সাধারণ উপকরণ। মূলত দুধের ছানা ও চিনি মিশিয়েই তৈরি হয় গুঠিয়ার সন্দেশ। পরে যোগ করা হয় কিশমিশ।

শাওন হাওলাদার জানান, সাধারণত ৫–৬ কেজি দুধ থেকে পাওয়া যায় ১ কেজি ছানা। সেই ছানার সঙ্গে ১ কেজি চিনি মিশিয়ে অল্প আঁচে ২০–৩০ মিনিট জ্বাল দেওয়ার পর পাকিয়ে নেওয়া হয়। এরপর কাঠের ওপর রেখে হাতে তৈরি করা হয় প্রতিটি সন্দেশের আকৃতি।

তাই স্বাদ ও ঘ্রাণে এই সন্দেশ আলাদা। পাশাপাশি কড়া পাক ও ভিন্ন আকৃতির কারণে দেখতেও আকর্ষণীয়।

দাম, চাহিদা ও বাস্তবতা

বর্তমানে প্রতি কেজি গুঠিয়ার সন্দেশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৭০০ টাকায়। এক কেজিতে পাওয়া যায় ৩৫–৩৭টি পর্যন্ত সন্দেশ। যদিও দুধ ও চিনির দাম বাড়ায় আগের মতো লাভ হচ্ছে না বলে জানান কারিগররা। তবুও মান ধরে রাখার বিষয়ে কোনো ছাড় দিচ্ছেন না তারা।

স্থানীয় ক্রেতা মইনুল ইসলাম বলেন, বিয়ে, জন্মদিনসহ নানা অনুষ্ঠানে এই সন্দেশের চাহিদা থাকে। এমনকি দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ গুঠিয়ায় এসে কিনে নিয়ে যান এই মিষ্টি।

ব্র্যান্ডে পরিণত গুঠিয়ার সন্দেশ

বরিশাল মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বিশ্বজিৎ ঘোষ জানান, প্রতিদিন ৫০০ কেজির বেশি চাহিদা থাকলেও উৎপাদন হচ্ছে তার অর্ধেকেরও কম। কারণ এই সন্দেশ তৈরির কৌশল সবাই জানেন না।

অন্যদিকে বিসিকের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গুঠিয়ার সন্দেশ ইতোমধ্যেই জেলার খাদ্যতালিকায় একটি ব্র্যান্ড হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। প্রয়োজনে কারিগরদের প্রশিক্ষণ দিতে প্রস্তুত বিসিক।

এদিকে স্থানীয়দের আশা—যথাযথ উদ্যোগ নিলে ভবিষ্যতে গুঠিয়ার সন্দেশ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও পরিচিতি পেতে পারে।

আরও বরিশালের ঐতিহ্যবাহী খাবারের খবর পড়তে চাইলে ভিজিট করুন:
আমাদের ফুড সেকশন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved 2018-2026
Design By MrHostBD
themesba-lates1749691102