প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে প্রিয় বরিশাল - খবর এখন স্মার্ট ফোনে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী জলিল হোটেলের গল্প | প্রিয় বরিশাল বরিশালের ঐতিহ্যবাহী জলিল হোটেলের গল্প | প্রিয় বরিশাল
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন
প্রিয় বরিশাল :
বরিশালে ডেঙ্গু পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর: বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের নেতা ও সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি সরোয়ার এখনো ঢাকা মেট্রোতে বহাল থাকা নিয়ে প্রশ্ন দক্ষিণাঞ্চলের ড্রেজিংয়ে শতকোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ বরিশালে মাদক অভিযানে এএসআইয়ের উপস্থিতি ও পলায়ন বরিশালের ৫০০ বছরের প্রাচীন গায়েবি মসজিদ দেখতে পর্যটকদের ভিড় ঢাবির সাবেক মেধাবী শিক্ষার্থীর ঠিকানা এখন বরিশালের বৃদ্ধাশ্রম বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে চরম উদাসীনতা বাংলার ভেনিস বরিশাল সম্ভাবনার অনন্য জনপদ কুয়াকাটায় ঝিনুকের সাদা কার্পেট ও বিদেশি পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় বরিশালের প্রাণকেন্দ্র সদর রোডের দুই শতাব্দীর বিবর্তন

বরিশালের ঐতিহ্যবাহী জলিল হোটেলের গল্প

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬
পটুয়াখালী জলিল মিয়া চিংড়ি মাছ রান্না করছে

মাটির চুলোয় রান্না, স্বাদের ঠিকানা জলিল হোটেল

বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে পটুয়াখালীর হেতালিয়া বাধঘাট এলাকায় অবস্থিত একটি সাদামাটা টিনসেড ঘর—কিন্তু স্বাদের দিক থেকে রাজকীয়। এই জায়গাটিই পরিচিত জলিল হোটেল নামে। কাঠের পাটাতনের ওপর নির্মিত ঘরে মাটির চুলোয় রান্না করা ঘরোয়া খাবার পরিবেশন করে দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে ভোজনরসিকদের মন জয় করে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি।

শুধু পটুয়াখালী নয়—ঢাকা থেকে কুয়াকাটা যাতায়াতকারী দেশের প্রায় সব জেলার মানুষই কখনো না কখনো এখানে থেমেছেন খাবারের স্বাদ নিতে। ফলে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকেও নিয়মিত আসেন ক্রেতারা।

দুপুরে উপচে পড়া ভিড়

বিশেষ করে দুপুর হলেই জলিল হোটেলে দেখা যায় সবচেয়ে বেশি ভিড়। প্রবেশ পথের পাশেই মাটির চুলোয় কাঠ জ্বালিয়ে রান্না হচ্ছে চিংড়ি ভুনা, ডাল খাসি ও মুরগির মাংস। অন্যদিকে টেবিল-চেয়ারে বসে আনন্দের সাথে খাচ্ছেন অতিথিরা। জায়গা না পেয়ে অনেকেই দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন।

এদিকে কর্মচারীরা এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে খাবার পৌঁছে দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মালিক আবদুল জলিল নিজেই হাসিমুখে কাস্টমারদের স্বাগত জানান—যা এই হোটেলের আন্তরিক পরিবেশকে আরও আলাদা করে তোলে।

প্রজন্মের পর প্রজন্মের পছন্দ

মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আয়শা সিদ্দিকা জানান, তার দাদা ও বাবাও নিয়মিত এখানে খেতে আসতেন। বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের নিয়েই মাঝেমধ্যে আসেন তিনি। বিশেষ করে এখানকার চিংড়ি মাছ তার সবচেয়ে প্রিয়।

অন্যদিকে ক্রেতা দেলোয়ার হোসেন বলেন, মাটির চুলোয় রান্না করায় খাবারের স্বাদ আলাদা লাগে। তার মতে, এখানকার ডাল খাসি সত্যিই অসাধারণ।

২০ টাকায় আনলিমিটেড ভাত

এই হোটেলের আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ হলো—মাত্র ২০ টাকায় তরকারির সাথে আনলিমিটেড ভাত। বড় গামলায় ভাত পরিবেশন করা হয়, প্রয়োজন মতো নিজেই নিয়ে খান ক্রেতারা। এছাড়াও দুধ-কলাসহ নানা ঐতিহ্যবাহী আইটেম পাওয়া যায় এখানে।

তবে একটি ব্যতিক্রমী নিয়ম রয়েছে—পুরো রমজান মাস হোটেল বন্ধ রাখা হয়। সে সময় গেটে আগেভাগেই নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়।

বিশ্বস্ততাই মূল শক্তি

স্থানীয় বাজার থেকে সংগ্রহ করা তাজা নদী ও সাগরের মাছ, কম মসলা আর গ্রামীণ স্টাইলে রান্নাই এই হোটেলের জনপ্রিয়তার মূল রহস্য। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০০ জন মানুষ এখানে খাবার খান। বর্তমানে ৭ জন কর্মচারী নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

এখন বাবার পাশে ব্যবসার হাল ধরেছেন ছেলে রবিউল ইসলাম শাকুর। তিনি বলেন, মানুষের বিশ্বাসই আমাদের মূল পুঁজি। তুলনামূলক কম দামে ভালো খাবার দেওয়ার চেষ্টা করি বলেই সবাই আমাদের ভালোবাসেন।

সংগ্রাম থেকে সাফল্য

৭০ বছর বয়সী আবদুল জলিল একসময় দই-চিড়া-মুড়ির ভাসমান দোকান করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ তার এই ছোট্ট হোটেলই হয়ে উঠেছে দক্ষিণাঞ্চলের স্বাদের অন্যতম ঠিকানা।

আরও স্থানীয় খাবারের গল্প পড়তে ভিজিট করুন: প্রিয় বরিশাল

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved 2018-2026
Design By MrHostBD
themesba-lates1749691102