টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজে স্পাই ক্যামেরা অভিযোগে ইন্টার্ন চিকিৎসক রিমান্ডে
প্রথমেই বলা যায়, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নারী চিকিৎসকদের ওয়াশরুমে স্পাই ক্যামেরা বসানোর অভিযোগে এক ইন্টার্ন চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আদালতের আদেশে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. আব্দুল কুদ্দুস পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি রুহুল আমিন।
এদিকে, হাসপাতালের এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের লিখিত অভিযোগের পর সোমবার অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। ঘটনার পর চিকিৎসক মহলসহ সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
তবে এটি দেশে প্রথম নয়। এর আগেও বিভিন্ন জায়গায় গোপন ক্যামেরা ব্যবহার করে নারীদের অজান্তে ছবি ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এ ধরনের পরিস্থিতিতে নারীরা কী করবেন?
প্রথমত, দ্রুত নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা করতে হবে। পাশাপাশি ঘটনার প্রমাণ—ভিডিও, ছবি বা ডিভাইস থাকলে তা সংরক্ষণ করা জরুরি।
এরপর, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়। প্রয়োজনে নারী ও শিশু সহায়তা কেন্দ্রে যোগাযোগ করাও কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন, নারীর সম্মতি ছাড়া ছবি তোলা বা ভিডিও ধারণ করা সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ।
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ও আইনজীবী এলিনা খান বলেন, “এটি একটি ক্রিমিনাল অফেন্স। যারা এমন কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে এবং এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।”
সবশেষে বলা যায়, কেবল আইন নয়—সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোই এ ধরনের অপরাধ রোধের সবচেয়ে বড় উপায়। হাসপাতালসহ সব পাবলিক স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি উঠেছে।
আপনার আশপাশে এমন কিছু দেখলে দেরি না করে পুলিশকে জানান—আপনার উদ্যোগই অন্য নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।