‘বরাদ্দের অভাবে বরিশাল সিটি করপোরেশনের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করা যাচ্ছে না। তার মেয়াদের দুই বছর অতিক্রম হলেও উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। একটি চক্র বরিশালকে বঞ্চিত করার জন্য পাশ হওয়া প্রকল্প আটকে রেখেছে। মূলত আওয়ামী লীগকে ব্যর্থ করতেই উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল সার্কিট হাউজে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা’ বিষয়ে বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় বক্তৃতাকালে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপির কাছে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।
বিসিসি মেয়র আরও বলেন, ‘বর্তমানে নিজস্ব তহবিলে ৩০ কোটি টাকা থাকলেও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় বিসিসি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নে চলমান কার্যক্রমের বিলও পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। মেয়র এসব বিষয়ে মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি বলেন, ‘বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রকল্পগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে পাশ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও তার ক্ষমতার মধ্যে থাকা ৫০ কোটি টাকার প্রকল্প দাখিল করা হলে তিনি তা পাশ করে দেবেন বলে বিসিসি মেয়রকে আশ্বস্ত করেন।’
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ড. অমিতাভ সরকারের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী, বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার, পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম প্রমুখ। প্রসঙ্গত, বরিশাল সিটি করপোরেশনের নিজস্ব আয় বাড়লেও সরকারিভাবে বরাদ্দ না মেলায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি এবং বিশেষ থোক বরাদ্দ কমে গেছে। চলতি অর্থবছরে উন্নয়নের জন্য কোনো বরাদ্দই পায়নি বিসিসি।