র্যাবের সাবেক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার আলমের কথা মনে আছে? ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানে তার ভূমিকা প্রসংশিত হয়েছিল। করোনাকালে তিনিই প্রতারক শাহেদকে গ্রেফতারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। জিকেজির আরিফ আর সাবরিনাকেও তিনি সাধারণ মানুষের সামনে এনেছিলেন। এরকম নানা গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনের মাধ্যমে আলোচনায় এসেছিলেন বিসিএস (প্রশাসন) ২৭ ব্যাচের এই কর্মকর্তা। সম্প্রতি সরকার তিনশতাধিক সিনিয়র সহকারী সচিবকে উপ-সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিয়েছে। কিন্তু এই পদোন্নতির তালিকায় সরোয়ার আলমের নাম নেই। কেন তিনি পদোন্নতি পাননি, এনিয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজী নন।
সরোয়ার আলম নানা কারণে আলোচিত। আলোচিত হবার কারণেই কি তিনি পদোন্নতি বঞ্চিত হলেন? এ প্রশ্ন প্রশাসনে বিভিন্ন মহলে। তবে সরোয়ারই প্রথম আলোচিত নন যিনি পদোন্নতি বঞ্চিত হলেন। ভেজাল বিরোধী অভিযানের কারণে তারকা হয়েছিলেন রোকন-উদ-দৌলা। সৎ অফিসার হিসেবে তারও সুনাম আছে। কিন্তু তারও পদোন্নতি আটকে গেছে অতিরিক্ত সচিবে। রোকন-উদ-দৌলা যখন ঢাকায় ভেজাল বিরোধী অভিযান করে আলোচিত, তখন চট্টগ্রামে একই অভিযান করে প্রশংসিত হয়েছিলেন মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী। মুনীর চৌধুরী পরিবেশ অধিদপ্তরে এসেও আলোচিত হন। পরিবেশ সুরক্ষায় নানা অভিযানে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছিল। এরপর তিনি যান দুর্নীতি দমন কমিশনে। দায়িত্ব পান মহাপরিচালক এবং এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের প্রধান হিসেবে। এখানেও দুর্নীতি বিরোধী তার দৃঢ় অবস্থান প্রশংসিত হয়েছিল। কিন্তু এতো প্রশংসিত হলেও তার ক্যারিয়ারে কোন লাভ হয়নি। সচিব হতে পারেননি মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী। তাকে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরে ডাম্পিং করা হয়েছে। এরকম আরেকজন মাহবুব কবীর মিলন। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় হোটেল রেষ্টুরেন্টের মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে গিয়ে আলোচিত হন। এরপর তিনি বদলী হন রেলপথ মন্ত্রণালয়ে। এখানে রেলের টিকেটে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে তিনি ভূমিকা রাখেন। কিন্তু গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়।
প্রশাসনে অনেকের প্রশ্ন, সৎ অফিসার হিসেবে স্বীকৃতি পাবার জন্যই কি তাদের এই পরিণতি? নাকি আলোচিত হওয়াটাই তাদের জন্য অভিশাপ। বিশ্লেষকরা মনে করেন, দায়িত্ব নিয়ে কাজ করলে যদি শাস্তির খড়গ নেমে আসে তাহলে ভবিষ্যতে এরকম ভাবে কেউই দায়িত্ব নিতে আগ্রহী হবে না।