শুভ জন্মদিন সাকিব আল হাসান । ২৪ মার্চ,১৯৮৭ সাল। এ দিনটি অন্যান্য দিনের মত সাধারণ একটি দিন হলেও বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এ দিনটি একটি সাধারণ দিন নয় । কারণ এ দিনেই জন্ম নিয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় নক্ষত্র সাকিব আল হাসান । খুলনা বিভাগের মাগুরা জেলায় জন্ম তার ।
১৫ বছরের ক্যারিয়ারে অনেক তর্ক বিতর্ক থাকলেও একটি ত!র্কের অবসান বেশ আগেই হয়ে গেছে যে বাংলাদেশের ক্রিকেটারের সবচেয়ে বেশী সফল প্লেয়ার তিনি । পরিসংখ্যান অন্তত তাই বলে। ২০০৬ সালে অভিষেক হওয়া সাকিব এ পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে ৫৭টি টেস্ট, ২০৯টি একদিনের ম্যাচ এবং ৭৬টি টি২০ ম্যাচ খেলেন । এরই মাঝে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব মিলিয়ে ব্যাট হাতে ১১,৯৩৩ রান এবং বল হাতে ৫৬৮ উইকেটের মালিক । ক্রিকেট ইতিহাসে সাকিব ছাড়া এ অর্জন আছে শুধু মাত্র সাউথ আফ্রিকান লিজেন্ড ক্যালিস এবং পাকিস্তানের লিজেন্ড ও জনপ্রিয় ক্রিকেটার আফ্রিদি এ দুজন ক্রিকেটারের ।

অভিষেকের পর ( ২০০৬ সালের ০৬ আগষ্ট) থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব ফর্ম্যাট মিলিয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের দিক থেকে সাকিবের অবস্থান ২১তম এবং সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকের দিক থেকে সাকিবের অবস্থান ৮ম ।

ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে ২০০৯ সালে প্রথমবারের মত বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের কোন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম অবস্থানে অবস্থান করার গৌরব লাভ করেন সাকিব আল হাসান । জ্যাক কালিস , জয়সুরিয়া আফ্রিদির মত অলরাউন্ডারদের টপকে প্রথমবারের মত ওয়ান্ডে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট র্যাংকিংয়ের নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার বনে যান সাকিব ।

একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন টেস্ট ক্রিকেটে এবং ২০১১ সালে এসে প্রথমবারের মত টেস্ট ক্রিকেটে নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার বনে যান । সাকিবের আগে এ পজিশন জ্যাক কালিসের দখলে ছিল ৩৬৯৬ দিনের জন্য ।
পরবর্তীতে ২০১৫ সালে ১২ই জানুয়ারি ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মত সাকিব আল হাসান এককভাবে টেস্ট ওডিআই এবং টি২০আই ক্রিকেটে র্যাংকিংয়ে প্রথম জায়গা একই সাথে দখল করেন ।
প্রথম তিন বিশ্বকাপে স্বভাবসুলভ ক্রিকেট না খেলতে পারলেও ২০১৯ বিশ্বকাপে নিজের আসল রূপ চিনিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান । এক বিশ্বকাপে ক্রিকেট ইতিহাসের ওয়াল্ড কাপের অনেক রেকর্ড তছনছ করে দেন । অনায়াসে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সর্বাকালের সেরা অলরাউন্ডারদের তালিকায় তার নাম চলে আসবে। এই বিশ্বকাপের এমভিপি হয়েছিলেন যদিও দল সেমিফাইনাল না যাওয়ায় ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট হতে পারেন নি।

এছাড়া সাকিব আল হাসানের কিছু উল্লেখযোগ্য রেকর্ড যা ইতিহাস হয়ে থাকবে –
একই ওয়ানডে ম্যাচে ৫০ রান ৫ উইকেট
একই টেস্ট ম্যাচে সেঞ্চুরি দশ উইকেট
টেস্ট ম্যাচে সকল টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া টিমের সাথে ৫ উইকেট এক ইনিংসে
একমাত্র স্পিন বোলার একই গ্রাউন্ডে ১০০+ উইকেট নিয়েছেন।
দ্রুততম অলরাউন্ডার ১০০০ রান এবং ৫০০ উইকেট সংগ্রাহকের তালিকায়
বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার যে কিনা শেষ দশকের সেরা ওডিআই টিমে জায়গা পেয়েছে
একই সাথে সিরিজের সর্বোচ্চ রান স্কোরার এবং উইকেট সংগ্রাহক ।
প্রথম বাংলাদেশী ক্যাপ্টেন হিসেবে এওয়ে টেস্ট সিরিজ জিতা।
প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ট্রাই ন্যাশন সিরিজে ম্যান অব দ্যা সিরিজ পুরস্কার অর্জন
প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে এশিয়া কাপে ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট পুরস্কার অর্জন
বাংলাদেশের হয়ে ওডিআই ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিক
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক
সাকিব আল হাসানের আরো অসংখ্য রেকর্ড আছে । এত এত রেকর্ড এবং পারফরম্যান্সের জন্যই হয়তো সাকিব ‘বাংলাদেশের প্রাণ বাংলাদেশের জান’ হয়ে আছে সকল ক্রিকেট প্রেমীর প্রাণে । আরো যুগ যুগ বেচে থাকুক সাকিব আল হাসান আর যতদিন ক্রিকেট খেলুক বাংলাদেশের মানুষকে আরো আনন্দের কারণ এনে দিক । শুভ জন্মদিন সাকিব আল হাসান ।