পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় পায়রা সমুদ্র বন্দর, একাধিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতকে ঘিরে হাজার হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প গড়ে উঠেছে। তবে এসব উন্নয়ন কার্যক্রমে স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়নি বললেই চলে। ফলে উপকূলীয় এই অঞ্চলের অধিকাংশ শিক্ষিত নারী এখনো বেকারত্বের অন্ধকারেই রয়ে গেছেন।
নারীদের অভিযোগ, উন্নয়নের সুফল কেবল পুরুষদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। এতে দিন দিন তাদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
তাই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীদের কর্মসংস্থানে যারা বাস্তব উদ্যোগ নেবে, তাদেরই ভোট দেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন নারী ভোটাররা।
কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলা নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১২ হাজার ৬০৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৮ হাজার ১২৩ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪৭৫ জন।
এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫ জন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও নারী ভোটারদের জন্য নেই কোনো সুস্পষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মসংস্থান পরিকল্পনা।
ইশতেহারেও নারীদের কাজের সুযোগ তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
পায়রা সমুদ্র বন্দর ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বছরের পর বছর হাজার হাজার পুরুষ কর্মকর্তা ও শ্রমিক কাজ করলেও নারীদের অংশগ্রহণ পাঁচ শতাংশেরও কম।
একই চিত্র পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায়। সেখানে বিপুল বিনিয়োগ হলেও নারীদের জন্য নেই উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান কিংবা নারী উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ।
শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি শিল্প ইউনিটগুলোতেও স্থানীয় শিক্ষিত নারীরা উপেক্ষিত বলেই জানান সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নম্রতা, আফরোজা ও নিহারিকা বলেন, কলাপাড়ায় কোনো শিল্প কারখানা গড়ে ওঠেনি। পায়রা বন্দর ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হলেও সেখান থেকে স্থানীয় শিক্ষিত নারীরা উপকৃত হননি।
তাদের দাবি, আগামী নির্বাচনে যে প্রার্থীর ইশতেহারে নারীদের কর্মসংস্থানের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকবে এবং তৃণমূল নারীদের উন্নয়নে বাস্তব চিন্তা থাকবে, তারাই নারী ভোট পাবেন।
সাগরতীরবর্তী কলাপাড়া উপজেলায় প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে মানুষ নিঃস্ব হয়। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে গ্রামীণ কর্মজীবী নারীদের ওপর।
তাই দুর্যোগকালীন সহায়তা ও পুনর্বাসনে যারা পাশে থাকবে, গ্রামীণ নারীরা তাদেরই ভোট দেওয়ার কথা বলছেন।
নারী নেত্রী জুলিয়েট বাড়ৈ বলেন, কলাপাড়ার মেগা প্রকল্পগুলোতে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
রাজনৈতিক দলগুলোকে এ বিষয়ে স্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিসিক শিল্পনগরীর মতো উদ্যোগ থাকলে অনেক শিক্ষিত গৃহবধু ঘরে বসেই কাজ করতে পারতেন।
নারীদের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে যেসব দল বাস্তব পদক্ষেপ নেবে, নারী ভোটারদের সমর্থন তারাই পাবে।