বরিশালে সংরক্ষিত আসনে আলোচনায় ফাতেমা রহমান
বরিশালের রাজনীতিতে গত আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজপথের এক লড়াকু সৈনিকের নাম ফাতেমা রহমান। বরিশাল জেলা মহিলা দলের এই বর্তমান সভাপতি এবার জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়নের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেত্রী নিজের যোগ্যতা, ত্যাগ এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন।
তৃণমূল থেকে গড়ে ওঠা বলিষ্ঠ নেতৃত্ব
ফাতেমা রহমানের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় আদর্শিক জায়গা থেকে।
১৯৮৫ সালে বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর থেকেই তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন।
মূলত ২০০১ সালে আবুল হোসেনের অনুপ্রেরণায় বাকেরগঞ্জ উপজেলা মহিলা দলের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর আর তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।
সংগঠন ও রাজপথের পরীক্ষিত সৈনিক
সংগঠনের প্রতি একনিষ্ঠতা দেখে ২০০৩ সালে তাকে জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
ধারাবাহিকভাবে তিনি ২০১৬ সালে সাধারণ সম্পাদক এবং ২০২১ সালে সভাপতির দায়িত্ব পান।
দলীয় প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তাকে সামনের সারিতে দেখা গেছে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে একাধিকবার মিথ্যা মামলা ও কারাবরণ করলেও দমে যাননি এই সাহসী নেত্রী।
আরও পড়ুন: বরিশালের রাজনীতির সাম্প্রতিক খবর
নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে ভূমিকা
ফাতেমা রহমান কেবল একজন নেতাই নন, বরং বরিশালের নারী জাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ।
তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে জেলার অসংখ্য নারী রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার সাহস পেয়েছেন।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, তিনি হিংসা বা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন; বরং আদর্শিক সাংগঠনিক কাঠামো বজায় রাখতেই বেশি পছন্দ করেন।
সংরক্ষিত আসনে প্রত্যাশা ও উদ্দীপনা
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংরক্ষিত নারী আসনে তার নাম আলোচনায় আসায় বরিশালের তৃণমূল বিএনপিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে।
সাধারণ কর্মীদের ধারণা, দীর্ঘদিনের ত্যাগের মূল্যায়ন হিসেবে তাকে মনোনয়ন দিলে বরিশাল জেলা মহিলা দল আরও সুসংগঠিত হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফাতেমা রহমানের মতো একজন অভিজ্ঞ ও রাজপথের নেত্রী সংসদে গেলে তা নারী নেতৃত্বের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।






